বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে কক্সবাজারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের গোপন সাক্ষাৎ নিয়ে যে গুঞ্জন উঠেছিল, তা এখনও থামেনি। এর মধ্যেই বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের সঙ্গে এনসিপি নেতাদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সোমবার (১১ আগস্ট) বিকেল ৫টা থেকে ৬টা পর্যন্ত গুলশান-২ এ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের নিজ বাসভবনে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে এ বৈঠক হয়। এতে ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের পাশাপাশি দূতাবাসের পলিটিক্যাল কাউন্সিলর এরিক গিলান উপস্থিত ছিলেন।
এনসিপির পক্ষ থেকে বৈঠকে অংশ নেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা এবং যুগ্ম সদস্য সচিব ও কূটনৈতিক প্রতিনিধি আলাউদ্দীন মোহাম্মদ।
সূত্র জানায়, বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এনসিপির নেতারা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। জ্যাকবসন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং আসন্ন নির্বাচন নিয়ে এনসিপির পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান।
এর আগে কক্সবাজারে পিটার হাসের সঙ্গে এনসিপি নেতাদের গোপন বৈঠকের গুঞ্জন রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন তোলে। গত ৫ আগস্ট, জুলাই অভ্যুত্থানবার্ষিকীর দিনে এনসিপির পাঁচ শীর্ষ নেতা—নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, ডা. তাসনিম জারা, খালেদ সাইফুল্লাহ, সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ—হঠাৎ কক্সবাজারে যান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি টিভি চ্যানেলে দাবি করা হয়, ওইদিন তারা সি পার্ল রিসোর্টে পিটার হাসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে এনসিপি নেতারা এ দাবি সরাসরি অস্বীকার করেন। এই ‘অঘোষিত সফর’ ঘিরে দলে অসন্তোষ দেখা দেয়। পরে ওই পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
সূত্র:কালবেলা
খবরওয়ালা/এন



