খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১১ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মাদারীপুরের সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়নের পশ্চিমমাঠ বাঘাবাড়ি এলাকায় চুরির অপবাদে জাকির শেখকে (৫০) অমানবিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় শতাধিক ব্যক্তি গত রবিবার সকালে তাঁকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে খোলা স্থানে মারধর করেন এবং খেজুরের কাঁটা ও সুই দিয়ে চোখ নষ্ট করার চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ পরিবারের। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর দুই চোখেই অস্ত্রোপচার করা হয়েছে; চিকিৎসকের আশঙ্কা, তিনি দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন জাকির শেখ। রবিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে একদল স্থানীয় লোকজন তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করে জোর করে টেনে নিয়ে যায়। চুরির অভিযোগে তাঁকে নির্মমভাবে পেটানো হয়। একই ঘটনায় বাবুল শিকদার (২৫) ও ইস্রাফিল মাতুব্বর (৪০) নামের আরও দুজনও গণপিটুনির শিকার হয়ে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় কয়েকটি ছিঁচকে চুরির ঘটনা ঘটায় যুবকদের উদ্যোগে রাতের পাহারা শুরু হয়। শনিবার রাত একটার দিকে বাবুলকে চোর সন্দেহে আটক করা হয়। পরে ইস্রাফিল মাতুব্বরকে আটক করে মারধর করা হয়। এরপর জাকিরের নাম আসে এবং তাঁকে নিজ বাড়ি থেকে তুলে এনে নির্যাতন করা হয়।
জাকিরের বড় মেয়ে এনি আক্তার বলেন, ‘আব্বুর অবস্থা ভালো নয়। ডাক্তার বলেছেন, তাঁর চোখের ৮০ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। চোখে দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। আব্বুর চোখে বড় অপারেশন আজ হইছে। আমার আব্বুকে যারা চুরির মিথ্যে অপবাদ দিয়ে এই অবস্থা করেছে, তাদের বিচার চাই।’
জাকিরের স্ত্রী ঝিনুক বেগম অভিযোগ করেন, দুই বছর আগে স্থানীয় বিরোধের জেরে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। ‘আমার স্বামী কোনো দোষ না করেও তাকে চিরদিনের জন্য অন্ধ করে দেওয়া হইছে… এতগুলো পোলাপান নিয়া আমি রাস্তায় নাইমা গেলাম,’ বলেন তিনি।
অভিযুক্ত কোহিনুর মাতুব্বর ও কামাল হোসেন দাবি করেন, আটককৃত বাবুলের স্বীকারোক্তিতে জাকিরের নাম আসে এবং ব্যক্তিগত শত্রুতার অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে শিরখাড়া ইউপি সদস্য সোহাগ মাতুব্বর বলেন, জাকিরকে আগে কখনো চুরির সঙ্গে যুক্ত দেখেননি এবং ঘটনার সময় তিনি কিছু করতে পারেননি।
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা সজীব হোসেন দাবি করেন, তাঁরা চোর চক্রের সদস্য এবং জাকির তাদের সরদার।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘চুরি করতে গিয়ে কেউ আটক হলেও তাঁকে মারধর করার কোনো সুযোগ নেই। যদি পূর্বশত্রুতার জেরে চোখ ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়ে থাকে, সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হবে। ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।’
খবরওয়ালা/এসআই