গাজা উপকূলে ফ্লোটিলা, নিরাপত্তার শঙ্কা

গাজায় ত্রাণ পৌঁছাতে যাওয়া গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার জাহাজগুলো বুধবার উপকূলের কাছে পৌঁছেছে। 

বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১২টায় নৌবহরের অন্তর্ভুক্ত ৪০টি জাহাজ মিসরের উপকূলে আন্তর্জাতিক পানিসীমায় অবস্থান করছিল।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা উপকূল থেকে প্রায় ৮০ নটিক্যাল মাইল (১৪৯ কিলোমিটার) দূরে ছিল জাহাজগুলো। কিছু জাহাজের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আয়োজকরা ধারণা করছেন, ইসরাইলি নৌবাহিনী নৌবহরকে ঘিরে রেখেছে।

ফ্লোটিলারের আয়োজকরা জানান, সন্দেহজনক কিছু জাহাজ নৌবহরের চারপাশে ঘুরছিল। আলজাজিরার প্রতিনিধি হায়াত ইয়ামানি বলেন, তার জাহাজের আশেপাশে অন্তত ১২টি সন্দেহজনক জাহাজ ছিল।

সুমুদ ফ্লোটিলা নৌবহর থেকে গ্রেটা থানবার্গ বলেন, আজ রাতে ইসরায়েল আমাদের আটক করবে। এর জন্য ইসরায়েলকে জবাবদিহি করতে হবে।

এদিকে লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা আটকানোর যুক্তি ভিডিওতে তুলে ধরেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক ফুটেজে দেখা গেছে, দখলদার নৌবাহিনীর এক নাবিক গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলাকে অগ্রসর হওয়া থেকে বিরত থাকতে বলছে, নইলে পরিণতি ভোগ করতে হবে।

ইসরায়েলি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামাস ফ্লোটিলার উদ্দেশ্য কেবল উসকানি। ইতালি, গ্রিস এবং জেরুজালেমের ল্যাটিন প্যাট্রিয়ার্কেটের সঙ্গে সমন্বয়ে গাজার জন্য মানবিক সাহায্য পাঠানোর বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হলেও ফ্লোটিলা তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইসরায়েল দাবি করেছে, ফ্লোটিলা সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং বৈধ নৌ অবরোধ ভঙ্গ করছে। তবু তারা আবারও বলেছে—যে কোনো সাহায্য নিরাপদ চ্যানেলের মাধ্যমেই গাজায় পাঠানো যাবে।

ফ্লোটিলার জাহাজের লাইভ করছিলেন আলজাজিরা সাংবাদিক লতফি হাজি ও ইউনেস আয়াত ইয়াসিন। তবে জাহাজে ইসরায়েলি সেনাদের আটকের পর তাদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অন্যদিকে সিরিয়ার জাহাজে কিছু অংশগ্রহণকারীকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আলজাজিরার সংবাদদাতা হায়া আল-ইয়ামানি রয়েছেন, যিনি ঘটনাটি লাইভ সম্প্রচারের সময় গ্রেপ্তার হন।

সুমুদ ফ্লোটিলার কর্মীরা জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী আন্তর্জাতিক পানিসীমায় প্রবেশ করে ফ্লোটিলার কয়েকটি জাহাজ আটক করেছে। আটক হওয়া জাহাজের মধ্যে আলমা, সুরিয়াস ও আদারা উল্লেখযোগ্য। তবে বাকি জাহাজগুলো এখনও গাজার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। 

৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলনা থেকে যাত্রা শুরু করে ফ্লোটিলা।  পরে ৮ সেপ্টেম্বর তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিসে এসে দুইটি জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়। জটিলতা সমাধানের পর ১৩ সেপ্টেম্বর তিউনিসিয়া ছাড়ে নৌবহরটি। পরবর্তী দু’দিনে তিউনিসিয়া ও ইতালি থেকে আরও কিছু জাহাজ যোগ হয়। মোট ৫২টি জাহাজ এই ত্রাণবহরের অংশ হিসেবে গাজায় যাচ্ছে।

খবরওয়ালা/আশ

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।