শাহজাহানের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রশাসন

জামায়াতে ইসলামীর নেতা শাহজাহান চৌধুরীর বিতর্কিত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিএএসএ)। শাহজাহান চৌধুরী দাবি করেছিলেন যে নির্বাচনে প্রভাব খাটাতে প্রশাসনকে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন, এবং প্রশাসনকে রাজনৈতিক নির্দেশে গ্রেপ্তার, মামলা ও নিরাপত্তা প্রদানের মতো কাজ করতে হবে। তাঁর বক্তব্যে আরও বলা হয় যে থানার ওসিদের রাজনৈতিক নেতাদের মতো প্রটোকল দেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। এই বক্তব্যকে সরকারি প্রশাসনের নীতিগত কাঠামোর সম্পূর্ণ বিপরীত বলে আখ্যা দিয়েছে অ্যাসোসিয়েশনটি।

গতকাল বৃহস্পতিবার দেওয়া এবং শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, এই ধরনের বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন, বিভ্রান্তিকর ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের পেশাদারিত্বের পরিপন্থী। তাঁরা জোর দিয়ে বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা কোনো রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী বা মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত নন। বরং তাঁরা পেশাদার, নিরপেক্ষ ও নৈতিক সিভিল সার্ভিসের সদস্য, যাদের মূল দায়িত্ব রাষ্ট্রীয় নীতি বাস্তবায়ন, আইনানুগ কর্তব্য পালন এবং নির্বাচনে নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।

বিবৃতিতে অ্যাসোসিয়েশনটি সতর্ক করে দিয়ে বলে, ভবিষ্যতে এমন মন্তব্য করা থেকে রাজনৈতিক নেতাদের বিরত থাকা উচিত। কারণ এ ধরনের দাবি প্রশাসনিক কাঠামোকে দুর্বল করে এবং জনগণের কাছে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করে।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএএসএ পুনর্ব্যক্ত করে যে প্রশাসনের কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, দক্ষতা এবং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখবেন। তারা বলেন, এটি শুধু একটি দায়িত্ব নয়, বরং সিভিল সার্ভিসের পরিচয়ের মূল ভিত্তি এবং পেশাগত নৈতিকতার অন্যতম প্রধান উপাদান।

সংগঠনটির মতে, স্বাধীন প্রশাসন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি। কোনো রাজনৈতিক শক্তির নির্দেশে প্রশাসন পরিচালনার ধারণা গণতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি সৃষ্টি করে এবং রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঝুঁকি বাড়ায়। শাহজাহান চৌধুরীর মন্তব্য তাই শুধু রাজনৈতিক নয়, প্রশাসনিক বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

Tags :

নিউজ ডেস্ক, খবরওয়ালা বাংলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ খবর