খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
২১শে নভেম্বরের ভূমিকম্প বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা প্রদান করেছে। যদিও এর মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম, রিখটার স্কেলে ৫.৫, তবুও এটি দেশের ভূমিকম্প ঝুঁকিকে সামনে এনেছে। ২রা ডিসেম্বর আরও একটি হালকা ভূমিকম্পও অনুভূত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের ভূতাত্ত্বিক থমাস এল ডেভিস, পিএইচডি অনলাইন গণমাধ্যম দ্য ডিপ্লোম্যাটে লিখেছেন, বাংলাদেশ এ ধরনের ভূমিকম্প মোকাবেলায় প্রস্তুত নয়।
ভূমিকম্পটি বাংলাদেশের পশ্চিম ও দক্ষিণ অংশে সংঘটিত হয়েছে, যা ভূতাত্ত্বিকদের বিস্মিত করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, পুরনো বেইসমেন্ট ফল্ট পুনরায় সক্রিয় হয়েছে। ২১শে নভেম্বরের মধ্যম মাত্রার ভূমিকম্পে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, ৬ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন এবং বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়েছে। এর উপকেন্দ্র ঢাকার কেন্দ্র থেকে মাত্র ২৫ থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে ছিল।
ঢাকার মতো উচ্চ জনঘনত্ব ও ভঙ্গুর নগর কাঠামোর শহরে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পও ভয়াবহ ক্ষতি করতে পারে। নগরীর জনসংখ্যা ৩ কোটি ৬৬ লাখ এবং প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২৩,০০০ থেকে ৩০,০০০ মানুষ বসবাস করে। বৃহৎ ভূমিকম্প প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতির বিপদ ডেকে আনতে পারে।
সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, তবে বড় অবকাঠামোগত প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কম খরচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। এর মধ্যে রয়েছে:
১. নতুন ভবনের জন্য বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি ২০২০) কঠোরভাবে বাস্তবায়ন।
২. ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো ভবনগুলোতে অগ্রাধিকারমূলক সংস্কার। স্কুল, হাসপাতাল, সরকারি ও জরুরি সেবা ভবন, বড় কারখানা অগ্রাধিকার পাবে।
৩. কম খরচের জনসচেতনতা ও প্রস্তুতি কর্মসূচি চালু করা। জাতীয় ভূমিকম্প মহড়া, এসএমএস-ভিত্তিক সতর্কতা, স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্র ও ওপেন স্পেস সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি।
৪. আন্তর্জাতিক দাতাদের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি করে সহায়তা প্রাপ্তি। বিশ্বব্যাংক, ইউএনডিপিআর, এডিবি ও জাইকা ইতিমধ্যেই দুর্যোগ প্রস্তুতি প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে।
খবরওয়ালা /এসএস