খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই ডিসেম্বর ২০২৫, ৫:৩৭ পিএম
চট্টগ্রাম নগরে কাস্টমসের দুই কর্মকর্তার প্রাইভেট কার থামিয়ে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং কর্মকর্তাদের ‘গুলি করার’ হুমকিও দেওয়া হয়।
ঘটনাটি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরের ডবলমুরিং থানার সিডিএ আবাসিক এলাকায় ঘটে। গাড়িতে থাকা দুজন হলেন চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান খান এবং সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বদরুল আরেফিন।
আসাদুজ্জামান খান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা অফিসের দিকে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ তিন ব্যক্তি এসে আমাদের গাড়ি থামান। সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির কাচ ভাঙচুর শুরু হয়। একজন আরেকজনকে বলতে থাকেন, “গুলি কর, গুলি কর”। আমরা দৌড়াতে শুরু করি এবং একটি গলিতে প্রবেশ করে প্রাণে বেঁচে যাই।’
তিনি আরও বলেন, গুলির কোনো আওয়াজ আমরা শুনিনি। গাড়ি ভাঙচুর হলেও আমরা গুরুতর আহত হইনি। কে বা কারা, কেন হামলা চালিয়েছে তা আমরা তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারিনি।
হামলাকারীরা মোট তিনজন ছিলেন। তারা একটি মোটরসাইকেলে এসে একজনের হাতে চাপাতি দিয়ে গাড়িতে কোপ দেয়। এরপর একজন গুলি করার নির্দেশ দেন।
আসাদুজ্জামান জানান, তাঁরা নিয়মিত কাস্টমসের অনিয়ম চিহ্নিত করে প্রতিদিন ১০-১২টি মামলা করেন। এই কারণে আগে হুমকিও পেয়েছেন এবং চাপও দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার মো. তারেক মাহমুদ বলেন, সম্প্রতি দুই কনটেইনারে আমদানিনিষিদ্ধ পপি বীজ ও ঘন চিনি এসেছে, যা কর্মকর্তারা ধরেছেন। এছাড়া কসমেটিকস আমদানিকে কেন্দ্র করে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল, যা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ফলে কর্মকর্তারা বিভিন্ন নম্বর থেকে হুমকি পাচ্ছেন।
তারেক মাহমুদ আরও বলেন, ‘কিছুদিন আগে একজন নিজেকে সাজ্জাদ পরিচয় দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন। আমাদের ধারণা, কাস্টমে অনিয়ম ধরার কারণে হামলা হতে পারে।’
ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল আজাদ বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে আছি। আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করা হবে।’
এ ঘটনার আগে ৬ অক্টোবর হুমকির বিষয়ে বন্দর থানায় একটি জিডি করেছিলেন আসাদুজ্জামান খান। সেখানে উল্লেখ ছিল, ৫ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টায় একজন ফোন করে হত্যা হুমকি দিয়েছেন।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা আহমেদ বলেন, তিনি ১২ দিন হলো দায়িত্বে রয়েছেন। জিডির বিষয়টি জানা নেই, খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
খবরওয়ালা /এসএস
মন্তব্য