রাজধানীর পুরান ঢাকার ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা শ্যামবাজারে প্রকাশ্যে একজন খ্যাতিমান ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার মাত্র এক দিনের মাথায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন নয়নকে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্রও জব্দ করা হয়, যা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা হবে।
র্যাব-১০ এর মিডিয়া অফিসার তাপস কর্মকার জানান, নয়নকে ধরতে র্যাবের গোয়েন্দা ইউনিট দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করে। ঘটনার পরপরই বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবৃতি এবং মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে সন্দেহভাজনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। র্যাবের দাবি, নয়নকে গ্রেপ্তার করা গেলেও হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না তা যাচাই করা হচ্ছে।
হত্যার শিকার আবদুর রহমান (৫৫) ছিলেন শ্যামবাজার কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি এবং পুরান ঢাকার পরিচিত মশলা ব্যবসায়ী। গতকাল দুপুরে মাওলা বক্স সরদার চক্ষু হাসপাতালের সামনে তাকে খুব কাছ থেকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। গুলি করার পর হামলাকারী দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা প্রকাশ করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় পথচারীরা আবদুর রহমানকে দ্রুত স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর বেশ আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত ছিল এবং হত্যাকারী ভিকটিমকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে গুলি করেছে।
এ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। ব্যবসায়ী সমাজের একাংশের দাবি, ব্যবসায়িক বিরোধ বা আর্থিক লেনদেনজনিত বিষয়েই এমন হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, এলাকার প্রভাব বিস্তার এবং ক্ষমতার লড়াইও এই ঘটনার পেছনে কারণ হতে পারে। র্যাবও সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে।
গ্রেপ্তার নয়ন কি হত্যাকাণ্ডের একমাত্র ব্যক্তি, নাকি আরও কেউ পরিকল্পনায় যুক্ত—এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। র্যাব জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে নয়ন কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে, তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই সেসব তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। নয়নের মোবাইল ফোন, ব্যক্তিগত নথি এবং যোগাযোগের নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হত্যাকাণ্ডের পর শ্যামবাজারে ব্যবসায়ী সমাজে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই দোকান আগেভাগে বন্ধ করেন। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, জেলাখানায় দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছে, যা নিয়ন্ত্রণে না আনলে আবারও এমন ঘটনা ঘটতে পারে।
র্যাব শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রেস ব্রিফিং করবে বলে জানা গেছে। তাতে হত্যাকাণ্ডের মোটিভ, গ্রেপ্তার নয়নের বক্তব্য এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে।



