দেশের অন্যতম প্রাচীন ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে চরম উদ্বেগ ও শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীতে অবস্থিত উদীচীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা সংগঠনটির দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সংগ্রামের ইতিহাসকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম সূত্রে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে তারা আগুন লাগার খবর পায়। খবর পাওয়ার পরপরই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। বেশ কিছু সময়ের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ততক্ষণে কার্যালয়ের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, নথিপত্র, সাংস্কৃতিক উপকরণ এবং বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগুনের তীব্রতায় কার্যালয়ের একটি বড় অংশ পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন বিবিসি বাংলাকে জানান, এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা বলে তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন। তার ভাষায়, বাইরে থেকে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং এতে কার্যালয়ের ভেতরে থাকা প্রায় সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তিনি বলেন, উদীচী শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি একটি আদর্শ ও সাংস্কৃতিক চেতনার নাম। এ ধরনের ঘটনা সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
অন্যদিকে, শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বিবিসি বাংলাকে জানান, আগুন বাইরে থেকে দেওয়া হয়েছে নাকি ভেতর থেকে দুর্ঘটনাবশত লেগেছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, আগুনের উৎস ও কারণ জানতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল ঘিরে রাখে এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করছে।
এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদীচীর শিল্পী, কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটিকে সাংস্কৃতিক সংগঠনের ওপর ধারাবাহিক চাপ ও হুমকির অংশ হিসেবে দেখছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে অসাম্প্রদায়িকতা, মুক্তচিন্তা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে কাজ করে আসছে। তাই এই অগ্নিকাণ্ড শুধু একটি কার্যালয়ের ক্ষয়ক্ষতি নয়, বরং দেশের সাংস্কৃতিক নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।



