সুদানের জাতিসংঘ শান্তি মিশনে নিহত কুড়িগ্রামের দুই সেনা সদস্যের লাশ তাদের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে উভয় লাশ সামরিক মর্যাদায় দাফন করা হয়।
দুই সেনার লাশ সামরিক হেলিকপ্টারযোগে জেলার উলিপুর উপজেলার হেলিপ্যাডে নামানো হয়। এরপর দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মোহাম্মদ মমিনুল ইসলামের লাশ উত্তর পকন্ডুল গ্রামে এবং শান্ত মন্ডলের লাশ রাজারহাট উপজেলার ছাট মাধাই গ্রামে পৌঁছে। পরিবারের সদস্য, গ্রামবাসী ও স্থানীয় সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।
| সেনা সদস্য | সেনাবাহিনীতে যোগদান | শান্তি মিশনে যোগ | ব্যক্তিগত জীবন | মৃত্যু পরিস্থিতি |
| মো. মমিনুল ইসলাম | ২০০৮, সৈনিক পদ | ২০২৩ | দুই কন্যা সন্তানের জনক | জাতিসংঘ শান্তি মিশনে নিহত |
| শান্ত মন্ডল | ২০১৮, সৈনিক পদ | ২০২৩ নভেম্বর | বিবাহিত, স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা ৫ মাস | বিদ্রোহীদের বোমা হামলায় নিহত সুদানে |
মোহাম্মদ মমিনুল ইসলামের জীবন ও অবদান:
২০০৮ সালে সেনাবাহিনীতে যোগদান করা মমিনুল ইসলাম চলতি বছর শান্তি মিশনে যোগ দেন। তিনি দুই কন্যার জনক ছিলেন। মমিনুলের অকাল মৃত্যু তার পরিবার ও গ্রামের মানুষদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে দিয়েছে।
শান্ত মন্ডলের জীবন ও পরিবার:
২০১৮ সালে সেনাবাহিনীতে যোগদান করা শান্ত মন্ডল চলতি বছরের নভেম্বরে সুদানে শান্তি মিশনে যান। সেখানে বিদ্রোহীদের বোমা হামলায় তিনি প্রাণ হারান। শান্ত দুই বছর আগে দিলরুবা আক্তার বৃষ্টির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে তার স্ত্রী বৃষ্টি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, যা পরিবারের শোককে আরও গভীর করেছে।
দাফনের সময় উপস্থিতরা সামরিক মর্যাদায় শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। উপস্থিত সেনা কর্মকর্তারা বলেন, এই দুই সাহসী সেনা দেশের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন। গ্রামের মানুষরা মৃত সেনাদের স্মরণে দোয়া করেন এবং তাদের পরিবারকে সহানুভূতি জানান।
এ ঘটনায় গ্রামবাসী ও পরিবারের চোখে-মুখে শোকের ছায়া থাকলেও, সামরিক মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ায় কিছুটা স্বস্তির অনুভূতি বিরাজ করছে। এই ঘটনা দেশের শান্তি মিশনে নিযুক্ত সেনাদের ত্যাগ ও সাহসিকতার প্রতীক হয়ে থাকবে।



