খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই জানুয়ারি ২০২৬, ৪:১৫ এএম
বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) যদি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, তবে এই সংস্থার অস্তিত্ব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন পাকিস্তানের সাবেক কিংবদন্তি স্পিনার সাঈদ আজমল। করাচিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, আইসিসি বর্তমানে তার নিরপেক্ষতা হারিয়ে একটি নির্দিষ্ট দেশের ক্রীড়া সংস্থার অনুগত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী এই ক্রিকেটারের মতে, আইসিসি যদি নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়, তবে বিশ্ব ক্রিকেটের স্বার্থে এই সংস্থাটি বিলুপ্ত করে দেওয়াই শ্রেয়।
বিসিসিআইয়ের প্রভাব ও আইসিসির ‘অসহায়ত্ব’
সাঈদ আজমল তাঁর বক্তব্যে ভারতের প্রতি আইসিসির বিশেষ নমনীয়তাকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন। ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজমল দাবি করেছেন যে টেস্ট খেলুড়ে অধিকাংশ দেশই তাঁর এই মতের সঙ্গে একমত পোষণ করে, কিন্তু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে তারা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পায় না। তিনি বিশেষ করে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার ক্রিকেটীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং সেখানে আইসিসির রহস্যময় নীরবতাকে উদাহরণ হিসেবে টেনে আনেন।
ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের বর্তমান চিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলি নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিস্তারিত বিবরণ |
|---|---|
| সর্বশেষ পাকিস্তান সফর | ২০০৮ সালের এশিয়া কাপে শেষবার ভারত পাকিস্তান সফর করে। |
| দ্বিপক্ষীয় সিরিজ | ২০১৩ সালের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজ হয়নি। |
| আইসিসি প্রধান | জয় শাহ (১ ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে দায়িত্বরত), সাবেক বিসিসিআই সচিব। |
| চ্যাম্পিয়নস ট্রফি বিতর্ক | ভারতের আপত্তিতে তাদের ম্যাচগুলো পাকিস্তান থেকে দুবাইয়ে স্থানান্তর করা হয়। |
| আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ | আয়োজক ভারত ও শ্রীলঙ্কা; পাকিস্তান কেবল শ্রীলঙ্কায় খেলবে। |
| সাঈদ আজমলের ক্যারিয়ার | ৩৫ টেস্টে ১৭৮ উইকেট এবং ১১৩ ওয়ানডেতে ১৮৪ উইকেট। |
জয় শাহর নেতৃত্ব ও বর্তমান সংকট
২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর আইসিসি চেয়ারম্যানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন জয় শাহ, যিনি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পুত্র। জয় শাহ বিসিসিআই-এর সচিব থাকা অবস্থাতেও পাকিস্তানের মাটিতে ভারতের খেলার ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে ছিলেন। আজমলের মতে, আইসিসির শীর্ষ পদে ভারতীয় প্রভাব থাকায় সংস্থাটি এখন ‘অসহায়’ হয়ে পড়েছে। পাকিস্তানের মাটিতে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মতো বৈশ্বিক আসরেও ভারত খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানায় এবং আইসিসি সেই দাবি মেনে নিয়ে টুর্নামেন্টের কাঠামো পরিবর্তন করে। এর ফলে টুর্নামেন্টের মান ও নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
রাজনৈতিক বৈরিতা ও খেলার মাঠ
২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার পর থেকে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতি খেলার মাঠেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। ২০১৬ এবং ২০২৩ সালে পাকিস্তান দল ভারতে গিয়ে বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশ নিলেও ভারত সরকার তাদের দলকে পাকিস্তানে পাঠানোর অনুমতি দেয়নি। সম্প্রতি কাশ্মীর ইস্যুতে উত্তজনা বাড়ায় এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানও এখন কঠোর অবস্থানে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজক ভারত ও শ্রীলঙ্কা হলেও পাকিস্তান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা ভারতের মাটিতে কোনো ম্যাচ খেলবে না; বরং তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে।
সাঈদ আজমল মনে করেন, ক্রিকেটের বিশ্বায়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আইসিসিকে অবশ্যই একক আধিপত্য থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অন্যথায়, ছোট দলগুলো এবং বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের মর্যাদা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, একটি বৈশ্বিক সংস্থাকে অবশ্যই সকল সদস্য দেশের প্রতি সমান আচরণ করতে হবে, কোনো বিশেষ দেশের আর্থিক শক্তির কাছে মাথা নত করা তাদের সাজে না।
মন্তব্য