কে-পপ দুনিয়ার ধ্রুবতারা এবং ব্ল্যাকপিঙ্ক (BLACKPINK) ব্যান্ডের জনপ্রিয় সদস্য লিসা এখন বিশ্ব বিনোদন জগতের বহুমুখী প্রতিভা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন। এইচবিও-র দর্শকপ্রিয় সিরিজ ‘দ্য হোয়াইট লোটাস’-এর তৃতীয় মৌসুমের মাধ্যমে অভিনয় জগতে পা রাখার পর এবার তিনি পা রাখছেন ওটিটি জায়ান্ট নেটফ্লিক্সের বড় পর্দায়। লিসার এই নতুন রোমান্টিক কমেডি সিনেমাটি নিয়ে ইতোমধ্যেই ভক্তদের মধ্যে তুমুল উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।
নতুন সিনেমার নেপথ্য কথা ও অনুপ্রেরণা
নেটফ্লিক্সের এই আসন্ন প্রজেক্টে লিসা কেবল মূল চরিত্রে অভিনয়ই করছেন না, বরং তিনি এর নির্বাহী প্রযোজকের (Executive Producer) গুরুদায়িত্বও পালন করবেন। মিডল চাইল্ড প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিতব্য এই সিনেমাটির প্রযোজক হিসেবে থাকছেন ডেভিড বার্নাড, যিনি ‘দ্য হোয়াইট লোটাস’ সিরিজের সফল প্রযোজনার সাথেও যুক্ত ছিলেন।
সিনেমাটির নাম বা প্রেক্ষাপট নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও ভেতরের খবর হলো, এটি নব্বই দশকের কালজয়ী রোমান্টিক কমেডি ‘নটিং হিল’ (Notting Hill) দ্বারা অনুপ্রাণিত। জুলিয়া রবার্টস ও হিউ গ্রান্ট অভিনীত সেই ক্ল্যাসিক ঘরানার স্বাদ ফিরিয়ে আনতেই এই উদ্যোগ নিয়েছেন লিসা ও ডেভিড। ‘দ্য হোয়াইট লোটাস’-এর শুটিং চলাকালীনই তাঁরা এই সিনেমার পরিকল্পনা করেছিলেন। এর চিত্রনাট্য লিখেছেন কেটি সিলভারম্যান, যার ঝুলিতে ‘সেট ইট আপ’-এর মতো সফল রোমান্টিক কমেডি লেখার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
লিসার সাম্প্রতিক অভিনয় ও সংগীত জীবনের অর্জনগুলো নিচে এক নজরে দেখে নেওয়া যাক:
| ক্ষেত্র | অর্জন / প্রজেক্টের নাম | বিশেষত্ব |
| অভিনয় অভিষেক | দ্য হোয়াইট লোটাস (মৌসুম ৩) | এইচবিও-র জনপ্রিয় সিরিজে থাইল্যান্ডের প্রেক্ষাপটে অভিনয়। |
| নেটফ্লিক্স সিনেমা | নাম চূড়ান্তহীন (রোম-কম) | ‘নটিং হিল’ দ্বারা অনুপ্রাণিত, লিসা নিজেই নির্বাহী প্রযোজক। |
| অ্যাকশন সিনেমা | এক্সট্র্যাকশন ইউনিভার্স | নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় অ্যাকশন সিরিজের একটি কিস্তিতে অংশগ্রহণ। |
| সংগীত (একক) | অলটার ইগো (Alter Ego) | বিলবোর্ড ২০০ তালিকায় সপ্তম স্থান দখলকারী একক অ্যালবাম। |
| সংগীত (ব্যান্ড) | ব্ল্যাকপিঙ্ক (BLACKPINK) | বিশ্বব্যাপী কে-পপ বিপ্লবের অন্যতম অগ্রদূত। |
লিসার জীবন ও বিশ্বব্যাপী পরিচিতি
থাইল্যান্ডের মেয়ে লিসা মাত্র ১৩ বছর বয়সে একরাশ স্বপ্ন নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। দীর্ঘ প্রশিক্ষণ শেষে ২০১৬ সালে তিনি ব্ল্যাকপিঙ্ক ব্যান্ডের সদস্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তাঁর অসাধারণ নাচ এবং র্যাপিং দক্ষতা তাঁকে এশিয়া ছাড়িয়ে ইউরোপ-আমেরিকার বাজারেও জনপ্রিয় করে তোলে। ২৯ বছর বয়সী এই তারকা গত এক দশকে বিশ্ব সংগীতের মানচিত্রে নিজের নাম উজ্জ্বল করেছেন।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তিপ্রাপ্ত লিসার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য একক অ্যালবাম ‘অলটার ইগো’ তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অ্যালবামটি বিলবোর্ড টপ অ্যালবাম সেলস চার্টের শীর্ষে উঠে আসার পাশাপাশি লিসার বৈশ্বিক আবেদন পুনরায় প্রমাণ করেছে। সংগীতের পাশাপাশি ফ্যাশন ও অভিনয় জগতেও তাঁর ক্রমবর্ধমান পদচারণা এটাই ইঙ্গিত দেয় যে, লিসা এখন কেবল একজন কে-পপ গায়িকা নন, বরং তিনি একজন ‘গ্লোবাল আইকন’।
উপসংহার
সংগীতশিল্পী থেকে অভিনেত্রী হিসেবে লিসার এই রূপান্তর তাঁর কঠোর পরিশ্রম এবং সৃজনশীলতার ফসল। নেটফ্লিক্সের নতুন এই রোমান্টিক কমেডি সিনেমাটি তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য একটি বড় মাইলফলক হতে পারে। ক্ল্যাসিক ঘরানার গল্পের সাথে লিসার আধুনিক ব্যক্তিত্বের সংমিশ্রণ দর্শকদের নতুন কিছু উপহার দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।



