খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২০২৬ সালে ফিলিপাইনে আঘাত হানা দ্বিতীয় শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঝড় ‘বাসিয়াং’ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ ক্ষতি সাধন করেছে। এই ঝড়ের প্রভাবে সৃষ্টি হওয়া বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে, এবং প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
দেশটির সিভিল ডিফেন্স অফিস (ওসিডি) জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে মিন্দানাও দ্বীপে, যেখানে ভারি বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ভূমিধসও ঘটেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের (NDRRMC) তথ্যমতে, উত্তর মিন্দানাও ও নেগ্রোস দ্বীপসহ কয়েকটি অঞ্চল রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের মুখোমুখি হয়েছে।
এছাড়া, ঝড়ের প্রভাবে প্রায় ৬৪ হাজার পরিবারকে তাদের ঘরবাড়ি ত্যাগ করে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৬ হাজার পরিবারকে বিভিন্ন সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
দেশটির আবহাওয়া দপ্তর জানায়, উত্তর মিন্দানাও অঞ্চলে গত ১০০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে নদীগুলো প্লাবিত হয়ে, ইলিগান সিটি সহ কয়েকটি অঞ্চলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংস হয়েছে। অনেক স্থানে নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মিমারোপা ও কারাগা অঞ্চলের ৮২টি সমুদ্রবন্দর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর ফলে চার হাজারের বেশি যাত্রী এবং কয়েকশ মালবাহী জাহাজ মাঝপথে আটকা পড়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরের দিকে ঝড়টি কিছুটা দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হলেও, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনও ভারী বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসের ঝুঁকি রয়ে গেছে।
ঝড়ের প্রভাব সংক্রান্ত তথ্যসংক্ষেপ নিম্নরূপ:
| অঞ্চল/পরিসংখ্যান | ক্ষতিগ্রস্ত সংখ্যা/পরিমাণ |
|---|---|
| মৃত ব্যক্তির সংখ্যা | 12 |
| সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ | 2,32,000+ |
| ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পরিবার | 64,000 |
| সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা পরিবার | 16,000 |
| বন্ধ সমুদ্রবন্দর | 82 |
| আটকা পড়া যাত্রী | 4,000+ |
| ধ্বংস হওয়া গুরুত্বপূর্ণ সেতু | 3 |
| রেকর্ড বৃষ্টিপাত (উত্তর মিন্দানাও) | সর্বোচ্চ 100 বছরের মধ্যে |
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, নদীর পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা কম, ফলে বন্যা পরিস্থিতি এবং ভূমিধসের ঝুঁকি আগামী কয়েকদিনও বিরাজ করবে। দেশীয় কর্তৃপক্ষ ও উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় кругл-the-clock কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ফিলিপাইনের জনসাধারণকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে, এবং সরকারি কর্মকর্তারা পুনর্বাসন ও ত্রাণ কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করছেন।