অনশনের পর বিয়ে, তিন মাসেই গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় প্রেমের সম্পর্কের পর অনশনের মাধ্যমে বিয়ে হওয়া এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় ২৩ বছর বয়সী মোনিয়া মুন্নির মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছিল। অন্যদিকে, ঘটনার পর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের কাউকে বাড়িতে না পাওয়ায় ঘটনাটি আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামের স্বামীর বাড়ি থেকে মুন্নির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত মোনিয়া মুন্নি উপজেলার ফুলবাড়ী মধ্যপাড়া ভূঁইয়াবাড়ির বাসিন্দা মঞ্জু মিয়ার মেয়ে। তিনি একই গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে জিহাদ ভূঁইয়ার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবার জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের একপর্যায়ে বিয়ে নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে মুন্নি প্রেমিক জিহাদ ভূঁইয়ার বাড়িতে গিয়ে টানা পাঁচ দিন অনশন করেন। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় গত ৩০ এপ্রিল ৯ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

তবে বিয়ের আগে থেকেই এ সম্পর্ককে কেন্দ্র করে নানা অভিযোগ সামনে আসে। মুন্নির মা রিনা বেগম হেমনগর তদন্ত কেন্দ্রে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়ে দাবি করেছিলেন, তার মেয়ের ভ্রূণ নষ্ট করা হয়েছে। একই সঙ্গে মেয়ের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আবেদন জানান তিনি। সেই অভিযোগের পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত উভয় পরিবারের সম্মতিতে এবং স্থানীয়দের উদ্যোগে বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়।

নিহতের পরিবারের ভাষ্য, বিয়ের পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং বিভিন্ন অজুহাতে মুন্নির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। এসব নির্যাতনের কারণে তিনি প্রায়ই মানসিক চাপে থাকতেন বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, এই মৃত্যুর পেছনে স্বাভাবিক কোনো কারণ নেই; ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বুধবার সকালে মুন্নির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বামী জিহাদ ভূঁইয়াসহ শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যদের কাউকেই বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তারা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে। যদি কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অস্বাভাবিক মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনায় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।