খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই আগস্ট ২০২৬, ৪:৬ পিএম
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা–রাজশাহী মহাসড়ক ও হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ এলাকায় এ দুটি দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর উভয় ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট যানবাহন দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘাতক যানবাহন শনাক্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার রামারচর এলাকায় ঢাকা–রাজশাহী মহাসড়কে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর অটোরিকশার চালক আফতাব আলী (৪০) গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর ‘ন্যাশনাল ট্রাভেলস’ নামের একটি বাস তাকে চাপা দিয়ে ঘটনাস্থল ছেড়ে দ্রুত চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত আফতাব আলীর বাড়ি উল্লাপাড়া উপজেলার দিয়ারপাড়া গ্রামে। তিনি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এক ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে উপজেলার হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ এলাকায়। দুপুর ১টার দিকে বগুড়াগামী সড়ক পার হওয়ার সময় অজ্ঞাতপরিচয় এক পুরুষ ভিক্ষুককে দ্রুতগতির একটি যানবাহন চাপা দেয়। আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর ঘাতক গাড়িটিও দ্রুত পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৬০ থেকে ৬২ বছর। তার পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। পরিচয় শনাক্তের জন্য বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠানোসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পরিচয় নিশ্চিত হলে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসমাইল হোসেন দুটি দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উভয় ঘটনায় পালিয়ে যাওয়া যানবাহন শনাক্ত এবং জব্দ করার লক্ষ্যে পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল ও আশপাশের তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
ঢাকা–রাজশাহী মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক হওয়ায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। ফলে সামান্য অসতর্কতা বা অতিরিক্ত গতিও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত নজরদারি চালালেও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের দায়িত্বশীল আচরণ, গতিসীমা মেনে চলা এবং পথচারীদের সতর্কতা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, দুটি ঘটনারই আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে নিহত অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত এবং দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহন দুটির অবস্থান নিশ্চিত করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
মন্তব্য