নওগাঁর মহাদেবপুরে পেছন থেকে একটি অ্যাম্বুল্যান্সের ধাক্কায় নীরেন চন্দ্র বর্মণ ওরফে হীরেন (৪৫) নামের এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ভ্যানে থাকা পরেশ চন্দ্র বর্মণ (৫৮) নামে এক যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের মদিনা পেট্রল পাম্পের উত্তর পাশের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নীরেন চন্দ্র বর্মণ মহাদেবপুর উপজেলার মুগরইল গ্রামের মৃত ধীরেন চন্দ্র বর্মণের ছেলে। একই গ্রামের বাসিন্দা আহত পরেশ চন্দ্র বর্মণ মৃত অধীর চন্দ্র বর্মণের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে নীরেন চন্দ্র বর্মণ তাঁর ভ্যানে পরেশ চন্দ্র বর্মণকে যাত্রী হিসেবে নিয়ে মহাদেবপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। তাঁরা এনায়েতপুর গ্রামের মদিনা পেট্রল পাম্পের উত্তর পাশের সড়কে পৌঁছালে পেছন দিক থেকে নজিপুরের দিক থেকে আসা একটি অ্যাম্বুল্যান্স ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়।
ধাক্কার তীব্রতায় ভ্যানটি সড়কে ছিটকে পড়ে এবং চালক ও যাত্রী দুজনই গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহত দুজনকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক নীরেন চন্দ্র বর্মণকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে গুরুতর আহত পরেশ চন্দ্র বর্মণের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
দুর্ঘটনার পর অ্যাম্বুল্যান্সটির চালক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে ছিলেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। পুলিশ অ্যাম্বুল্যান্সটির পরিচয় শনাক্ত ও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখার কাজ করছে।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নীরেন চন্দ্র বর্মণের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রয়োজনীয় সুরতহাল শেষে মরদেহ তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। দুর্ঘটনার কারণ এবং দায়ী যানবাহন শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।


