আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকায় আরও উচ্চমূল্যে দুই কার্গো এলএনজি কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিশ্ববাজারে জ্বালানির অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাবে বিগত কয়েক মাসের ব্যবধানে বাংলাদেশে এলএনজি আমদানির খরচ দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে আন্তর্জাতিক খোলা বাজার (স্পট মার্কেট) থেকে এই দুই কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রক্রিয়াজাত করা এই প্রস্তাবের প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ১০৫-এর উপবিধি ৩-এর দফা (ক) অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশন আহ্বানের মাধ্যমে এই গ্যাস ক্রয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ১৩ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বরের জন্য নির্ধারিত ৪৬তম কার্গো এলএনজি সরবরাহ করবে দক্ষিণ কোরিয়ার পসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন। আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী এই কার্গোর প্রতি ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪.৬২৫ মার্কিন ডলার।
অন্যদিকে, ২৩ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বরের জন্য নির্ধারিত ৪৭তম কার্গো এলএনজি সরবরাহ করবে যুক্তরাজ্যের টোটালএনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড। এই কার্গোর ক্ষেত্রে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির জন্য সরকারকে গুনতে হবে ২৪.২৫ মার্কিন ডলার।
পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে এলএনজির দর দ্রুত উঁচুর দিকে ধাবিত হচ্ছে। গত বছরের ডিসেম্বরেও বাংলাদেশ প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি সাড়ে ১০ মার্কিন ডলারের নিচে কিনতে পেরেছিল। অথচ মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে তা একলাফে ২৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর ঠিক এক সপ্তাহ আগে, গত ১৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৩.৯৩ ডলার দরে এক কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, যেখানে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৩৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
দেশের শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও বাসাবাড়িতে তীব্র গ্যাস-সংকট সামাল দিতেই মূলত সরকারকে উচ্চমূল্যে জরুরি ভিত্তিতে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। তবে বিশ্ববাজারে এমন চড়া দাম বজায় থাকলে আমদানিনির্ভর এই জ্বালানির দরবৃদ্ধি দেশীয় অর্থনীতি ও বাণিজ্য খাতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।


