খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে ভাদ্র ১৪৩২ | ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন আগামী ৯ সেপ্টেম্বর। এ নির্বাচনকে ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এখন সবার কৌতূহল কে হচ্ছেন ডাকসুর পরবর্তী ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) ও জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস)? আর তাঁরা কত টাকা করে পান?
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডাকসুর ভিপি ও জিএস পদে কোনো বেতন নেই। তবে দায়িত্বকালীন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এককালীন অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। মূলত চা–নাস্তা, সভা–সমাবেশ ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে এই অর্থ ব্যবহার করা হয়। ডাকসুর ভিপি ও জিএসের জন্য মোট বরাদ্দ থাকে ১০ লাখ টাকা, ভিপির জন্য পাঁচ লাখ এবং জিএসের জন্যও পাঁচ লাখ টাকা।
ডাকসুর সাবেক জিএস গোলাম রাব্বানী জানান, ’ভিপি ও জিএসের জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকে। এর মধ্যে আমি দুই লাখ টাকা তুলেছিলাম, এখনো তিন লাখ টাকা ডাকসুতে রয়েছে। সেটি নতুন কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন হলে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তাতেও এই অর্থ ব্যবহার করা হয়।
ভিপি ও জিএস পদ দুটির গুরুত্ব অর্থের চেয়ে অনেক বেশি সম্মান ও ক্ষমতার কারণে। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ দুটি নীতিনির্ধারণী বডি, সিনেট ও সিন্ডিকেট–এর সদস্য হন। ফলে হাজারো শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্ব করে এসব সভায় ছাত্রদের দাবি তুলে ধরার সুযোগ পান।
সিনেট ও সিন্ডিকেটে দেশের প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও সদস্য হিসেবে থাকেন। সেখানে ভিপি ও জিএস অন্য সদস্যদের মতোই মতামত প্রদান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট, উন্নয়ন পরিকল্পনা, সমাবর্তন, সিলেকশন বোর্ড—সবক্ষেত্রেই তাঁদের সম্পৃক্ততা থাকে। চাকরি দেওয়া বা অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তেও ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তাঁদের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়।
পদ দুটির সঙ্গে নিয়মিত কোনো বেতন বা মাসিক ভাতা নেই। তবে সিনেট বা সিন্ডিকেটের বৈঠকে অংশ নিলে একটি নির্দিষ্ট ভাতা দেওয়া হয়। আবার বিশেষ দায়িত্ব পালন করলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সম্মানী পেতেও পারেন।
অর্থাৎ ভিপি–জিএস পদ দুটি অর্থনৈতিক সুবিধার চেয়ে অনেক বেশি নেতৃত্ব, মর্যাদা ও ক্ষমতার প্রতীক।
খবরওয়ালা/এমএজেড