রংপুরের গঙ্গাচড়ায় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) ভুয়া কর্মকর্তা সেজে এক কলেজছাত্রীর সঙ্গে প্রতারণা, সাড়ে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং ধর্ষণের অভিযোগে লিয়ন নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা বাদী হয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় অভিযুক্ত লিয়ন ও তাঁর বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, অভিযুক্ত লিয়ন নিজেকে এনএসআইয়ের উর্ধতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ওই তরুণী ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। সম্পর্কের একপর্যায়ে তরুণীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের চাকরি ও অন্যান্য সুবিধাসংক্রান্ত প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন দফায় মোট সাড়ে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। শুধু অর্থ আত্মসাৎই নয়, তরুণীকে ভুয়া স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার দিন গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে লিয়ন ভুক্তভোগী তরুণীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর কক্ষে প্রবেশ করেন এবং জোরপূর্বক তাঁকে ধর্ষণ করেন। তরুণীর চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দ্রুত এগিয়ে এসে লিয়নকে হাতেনাতে আটক করেন। ক্ষুব্ধ জনতা এ সময় তাঁকে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে গঙ্গাচড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লিয়নকে উদ্ধার করে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে এবং পরবর্তীতে তাঁকে থানায় নেওয়া হয়।
অভিযান ও আটকের সময় পুলিশ লিয়নের কাছ থেকে বিয়ের একটি ভুয়া এফিডেভিটের কপি এবং এনএসআইয়ের একটি জাল পরিচয়পত্র জব্দ করেছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ জানিয়েছে, লিয়ন প্রকৃতপক্ষে বিবাহিত। ঠিক একই কৌশল অবলম্বন করে তিনি এর আগেও একাধিক নারীর সঙ্গে ভুয়া পরিচয় দিয়ে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সবুর জানান, অভিযুক্তের কাছ থেকে ভুয়া বিয়ের কাগজপত্র ও জাল আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লিয়নকে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সাথে ঘটনার সাথে তাঁর বাবা-মায়ের কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তাও গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

