রাজনৈতিক মহলে এনসিপির (জাতীয় নাগরিক পার্টি) শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং দ্বন্দ্ব ক্রমেই স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক কক্সবাজার ট্যুর কাণ্ড এই সংকটকে আরও গভীর করেছে।
ঘটনাটি ঘটে যখন মানিক মিয়া এভিনিউয়ে গণঅভ্যুত্থান বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান চলে। ওই দিন কক্সবাজারে গোপন সফরে যান এনসিপির চারজন কেন্দ্রীয় নেতাসহ ৫জন। তারা হলেন-হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস, তাসনিম জারা ও নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী এবং খালেদ সাইফুল্লাহ। তাদের এই আচরণ দলের অভ্যন্তরে হুলুস্থুল সৃষ্টি করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং গণমাধ্যমে গুঞ্জন ওঠে, তারা সেখানে বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন।
দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এ ঘটনায় নড়েচড়ে বসে ওই চার নেতার বিরুদ্ধে শোকজ জারি করে কক্সবাজার ট্যুরের ব্যাপারে বিস্তারিত জানার দাবি তোলেন। শোকজের জবাবে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, “সুন্দর সমুদ্র সৈকতে বসে দলের ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিক নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েছিলাম।”
এদিকে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠের অনুষ্ঠানকে ‘অসম্পূর্ণ’ ও ‘বিভাজনমূলক’ আখ্যা দিয়ে, এর বিরুদ্ধে নিজের নীরব প্রতিবাদ হিসেবে কক্সবাজার সফর করেছি। যদিও জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠের অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া দলীয় এইশোকজকে ওই ৫ নেতা ভালোভাবে নেননি বলে এনসিপির একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। তাছাড়া, এই দুই নেতার জবাবেও মনোমালিন্য ও সম্পর্কের টানাপোড়েন স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা এনসিপির অভ্যন্তরীণ জোট এবং নেতৃত্বের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই ও মনোমালিন্যের প্রতিফলন। দলটির ঐক্য বজায় রাখা এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
এনসিপির নেতাদের মধ্যকার এই সম্পর্কের সংকট আগামী দিনে দলীয় কার্যক্রম ও রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
খবরওয়ালা/এমএজেড



