ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে প্রথমার্ধের সমতার চাপ কাটিয়ে বিরতির পর দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপের চোখধাঁধানো হ্যাটট্রিক এবং ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিউস জুনিয়রের দারুণ এক গোলে রিয়াল সোসিয়েদাদকে ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে মাঠ ছেড়েছে স্বাগতিকরা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে লিগের পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের শীর্ষস্থান আরও শক্ত করল রিয়াল।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য একদম সহজ ছিল না রিয়ালের জন্য। বের্নাবেউয়ের চেনা আঙিনায় ছোট ছোট পাসে আক্রমণ সাজিয়ে ১১তম মিনিটেই ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল সোসিয়েদাদ। সতীর্থের বাড়ানো পাস থেকে ডি-বক্সে ফাঁকা জায়গায় বল পেয়ে যান স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী তারকা মিকেল ওইয়ারসাবাল। তবে তাঁর জোরালো শট পা দিয়ে ঠেকিয়ে রিয়ালকে নিশ্চিত বিপদের হাত থেকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক তিবো কোর্তোয়া। এর ১০ মিনিট পর প্রতিআক্রমণ থেকে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পায় রিয়াল মাদ্রিদ। এমবাপের চমৎকার পাস থেকে সোসিয়েদাদ গোলরক্ষক আলেক্স রেমিরোকে একা পেয়ে যান ভিনিসিউস, কিন্তু ব্রাজিলিয়ান তারকার শট একইভাবে পা দিয়ে আটকে দেন রেমিরো।
৩৫তম মিনিটে আবার সুযোগ নষ্ট করে সফরকারী দল। ডান দিক থেকে ওইয়ারসাবালের নিখুঁত ক্রসে বাঁ পায়ে জোরদার ভলি করেন সের্হিও গোমেস, কিন্তু বল রিয়ালের দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। সোসিয়েদাদের একের পর এক আক্রমণের ধাক্কা সামলে ৪০তম মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় রিয়াল। মিডফিল্ডার ফেদে ভালভের্দের দুর্দান্ত পাস ডি-বক্সে অসাধারণ ছোঁয়ায় নিয়ন্ত্রণে নেন এমবাপে। প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান ফরাসি এই ফরোয়ার্ড।
তবে এগিয়ে যাওয়ার সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি সোসিয়েদাদ। মাত্র চার মিনিট পর, ৪৪তম মিনিটে রিয়াল ডিফেন্ডারদের ভুলে সমতায় ফেরে সফরকারীরা। ডি-বক্সে ওচিয়েংয়ের শট এক স্বাগতিক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে অন্যপাশে ফাঁকায় চলে গেলে ছুটে এসে কোনাকুনি শটে কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন ক্রোয়াট মিডফিল্ডার সুচিচ। ১-১ সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পর আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে রিয়াল মাদ্রিদ। ৬০তম মিনিটে জুড বেলিংহ্যামের সাথে দ্রুত বল দেওয়া-নেওয়া করে বক্সে নিজের জন্য জায়গা তৈরি করেন এমবাপে। এর পর চমৎকার কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠিয়ে রিয়ালকে আবার এগিয়ে নেন তিনি। এই গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ৬৮তম মিনিটে ব্যবধান ৩-১ করেন ভিনিসিউস। এই গোলটিতে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল বেলিংহ্যামের। সোসিয়েদাদের রক্ষণভাগের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে বাইলাইন থেকে বিপজ্জনক এক পাস বাড়ান তিনি, আর পোস্টের খুব কাছ থেকে খালি জালে সহজে বল ঠেলে দেন ভিনিসিউস।
৮০তম মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণের পাশাপাশি রিয়ালের ৪-১ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করেন এমবাপে। সোসিয়েদাদ ডিফেন্ডারের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে চমৎকার একটি থ্রু বল বাড়ান ভিনিসিউস। ছয় গজ বক্সের ঠিক বাইরে বল পেয়ে ঠাণ্ডা মাথার শটে রেমিরোকে পরাস্ত করেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। ম্যাচের শেষদিকে আর্দা গিলেরের বদলি হিসেবে নামা ব্রাহিম দিয়াস জালে বল পাঠালেও ভিএআরের সাহায্যে অফসাইডের সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। ফলে শেষ পর্যন্ত ৪-১ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ।
চলমান মৌসুমে টানা দুই ম্যাচে জয় পেয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে রিয়াল মাদ্রিদ। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে সেভিয়া এবং রিয়াল বেতিস।


