খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫
শেষ পর্যন্ত গুঞ্জনটাই সত্যি হলো। টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব থেকেও সরে দাঁড়ালেন নাজমুল হোসেন শান্ত। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বো টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারার পর সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত জানান বাঁহাতি এই ব্যাটার।
২০২৩ বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাকে সব ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব দিয়েছিল। কিন্তু এক বছরের মাথায় সবকিছু বদলে যায়। গত বছরই নেতৃত্ব ছাড়তে চেয়েছিলেন শান্ত, তবে বিসিবি সভাপতির অনুরোধে সে সময় সিদ্ধান্ত বদলান। তখন টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব তিনি ছেড়েছিলেন, বাকিগুলো রেখেছিলেন।
চলমান শ্রীলঙ্কা সিরিজ শুরুর আগে জানা যায়, ওয়ানডে দলের নেতৃত্বও শান্তের কাছ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজকে। এরপর থেকেই গুঞ্জন চলছিল, শান্ত আর টেস্টের দায়িত্বও রাখবেন না। অবশেষে কলম্বো টেস্টের হতাশাজনক হারের পর নিজেই জানালেন সরে দাঁড়ানোর কথা।
নাজমুল হোসেন শান্তর অধীনে বাংলাদেশ খেলেছে ১৪টি টেস্ট ম্যাচ। এর মধ্যে জয় এসেছে ৪টি—নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১টি, পাকিস্তানের বিপক্ষে ২টি ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১টি। অন্যদিকে ওয়ানডেতে ১৩ ম্যাচের নেতৃত্বে ৪টিতে জয় পায় বাংলাদেশ।
অধিনায়ক হিসেবে শান্তর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স অবশ্য প্রশংসার দাবি রাখে। টেস্টে যেখানে তার ক্যারিয়ার গড় ৩২, অধিনায়কত্বের সময় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬-এ। অধিনায়ক হিসেবে করেছেন ৩টি সেঞ্চুরি ও ২টি অর্ধশতক।
ওয়ানডেতে তো পারফরম্যান্স আরও উজ্জ্বল। ক্যারিয়ার গড় যেখানে ৩৪, অধিনায়ক হিসেবে তা বেড়ে হয়েছিল ৫১। এখানেই এসেছে তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস—১২২ রান, অপরাজিত থেকে। স্ট্রাইক রেটেও উন্নতি হয়েছিল এই সময়।
তবে টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্ব তার জন্য সুখকর হয়নি। সেখানে তার গড় ও স্ট্রাইক রেট, দুটোই পড়ে গিয়েছিল। অধিনায়ক হিসেবে ব্যাট হাতে সে ফরম্যাটে শান্ত ছিলেন বেশ অনুজ্জ্বল।
সব মিলিয়ে টেস্ট অধিনায়কত্ব ছাড়ার মধ্য দিয়ে শান্তর অধিনায়কত্ব অধ্যায়ের কার্যত ইতি ঘটল। এখন দেখার বিষয়, ব্যাট হাতে আবার আগের মতো ফর্মে ফিরতে পারেন কিনা তিনি।
খবরওয়ালা/ এমএজেড