শরীয়তপুরের জাজিরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাইনুল ইসলামের বদলির খবর ছড়িয়ে পড়তেই জাজিরাবাসীর মধ্যে স্বস্তির বাতাস বইতে শুরু করেছে। এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের অভিযোগ—ওসি মাইনুল ইসলাম বিভিন্ন অপকর্ম, বিশেষ করে গ্রেপ্তার বাণিজ্য, রিমান্ডের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, ধনাঢ্য ও নিরীহ ব্যক্তিদের থানায় ডেকে নিয়ে রাজনৈতিক তকমা লাগিয়ে জেলে পাঠানোর হুমকি এবং মামলার ধারা পরিবর্তনসহ নানা দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়েছেন।
তার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি গ্রহণে অনিয়ম ও তদন্তে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও বহুবার উঠেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে মানুষকে নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছিল।
ওসি মাইনুলের বদলির খবর প্রকাশের পর শত শত মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্বস্তির বার্তা প্রকাশ করেছে। মো. জুয়েল বেপারী লিখেছেন, “জাজিরা থানায় এত ওসি এসেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ছিল মাইনুল ইসলাম।” মো. শহিদ মন্তব্য করেছেন, “এই মাইনুলের উপর আল্লাহর গজব হোক, যাওয়ার আগেও মাছ ব্যবসায়ী খবির মাদবরকে বিনা অপরাধে গ্রেপ্তার করেছে।” লিটন আকন লিখেছেন, “দুদক তার সম্পদের তদন্ত করুক, পাঁচ মাসেই অনেক টাকা কামিয়েছে।” আরেকজন লিখেছেন, “কোটি কোটি টাকা নিয়ে গেছে জাজিরা থেকে।” মোহাম্মদ আকাশ মাদবর লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, এবার জাজিরার মানুষ শান্তিতে থাকবে।” রেদোয়ান মন্তব্য করেছেন, “জাজিরার মানুষ বেঁচে গেছে, চট্টগ্রামের মানুষ বিপদে পড়ছে।”
এলাকাবাসীর দাবি, ওসি মাইনুল ইসলামের সম্পদের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীরা জানান, তার রোষানলে পড়ার ভয়ে ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ এমনকি রাজনৈতিক নেতারাও মুখ খুলতে সাহস পাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শরীয়তপুর জেলা জজ কোর্টের এক আইনজীবী বলেন, “চাহিদামতো টাকা না দেয়ায় স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সাজিয়ে কোর্টে চালান দেয়।” এছাড়া টাকার বিনিময়ে মামলার আসামিকে গোপনে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাও রয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের আওয়ামী লীগ পরিচয় দিয়ে গ্রেপ্তার করে টাকা নিয়ে রাতে বৈঠক করে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
ওসি মাইনুলকে মাসোহারা দিয়ে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের দাগী নেতাকর্মীরা এলাকায় অবাধে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পেয়েছে। একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জাজিরা থানার পর তিনি মরিয়া হয়ে নড়িয়া থানায় বদলি হওয়ার চেষ্টা করেছেন, কারণ ওই এলাকার বহু মানুষ ইউরোপ প্রবাসী এবং আর্থিকভাবে সচ্ছল।
ওসি মাইনুলের বদলির খবরে স্থানীয়রা মনে করছেন, জাজিরায় ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ এখন কিছুটা হলেও সহজ হবে। জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকার পুলিশ সুপারদের পাশাপাশি ৫২৭টি থানার ওসিকে লটারির মাধ্যমে বদলি করেছে। নতুন ওসি আসায় এলাকাবাসী আশা করছেন—আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, সেবার মান বৃদ্ধি এবং থানায় জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
মুঠোফোনে মতামত জানতে চাইলে ওসি মাইনুল ইসলাম বলেন, “যারা লিখেছে তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করুন, আমি আরও এক সপ্তাহ এখানে থাকব”—এ কথা বলেই ফোন কেটে দেন।
খবরওয়ালা /এসএস



