কট্টর হামলার হুমকি, অনড় ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের অষ্টম দিনে, দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সর্বোচ্চ তীব্রতায় হামলার মুখোমুখি হয়েছে। শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর আরও কঠোর ও বিস্তৃত হামলা চালানোর হুমকি দেন। তিনি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থাপনা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করার ঘোষণা দেন।

তবে ইরান কোনোভাবেই আত্মসমর্পণ করবে না বলে পুনরায় জানিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, “ইরান কেবলমাত্র আত্মরক্ষার জন্য প্রতিক্রিয়া দেখাবে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো দেশ ইরানকে আক্রমণ না করলে আমরা পাল্টা হামলা চালাব না।” পাশাপাশি ইরান গতকালই ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

হামলার বিস্তৃতি ও লক্ষ্যবস্তু

যুদ্ধের অষ্টম দিনে, তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দর এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের সামরিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বাহিনী সকাল থেকে বিস্তৃত হামলা চালানোর ঘোষণা দেয়। মার্কিন ও ইসরায়েলি এই হামলার জবাবে, ইরান তার সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে পাল্টা হামলা চালায়।

ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে লক্ষ্যবস্তু ছিল:

দেশ/স্থান লক্ষ্যবস্তু হামলার ধরন ক্ষেপণাস্ত্র/ড্রোন
সৌদি আরব প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হাইপারসনিক
সংযুক্ত আরব আমিরাত আল-দাফরা বিমানঘাঁটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হাইপারসনিক
কুয়েত আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হাইপারসনিক
সংযুক্ত আরব আমিরাত দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ড্রোন হামলা ড্রোন
বাহরাইন মানামা শহর ড্রোন/ক্ষেপণাস্ত্র সাধারণ ও হাইপারসনিক
আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালী, মাল্টা ও মার্শাল আইল্যান্ডের তেলজাহাজ নৌ হামলা ড্রোন/ক্ষেপণাস্ত্র

হতাহতের বিবরণ

চলমান যুদ্ধ ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের ১২টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। অন্যান্য দেশের মধ্যে অন্তত ২৯ জন নিহত হয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আল–বারশা এলাকায় ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন গাড়িচালক নিহত হন। ইরানের মধ্যে নিহতের সঠিক সংখ্যা শনিবার প্রকাশ করা হয়নি, তবে শুক্রবার পর্যন্ত দেশটিতে নিহতের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৩২।

সামরিক ও কৌশলগত বিশ্লেষণ

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার মাধ্যমে ইরান প্রমাণ করেছে তার আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে সক্ষমতা রয়েছে। আইআরজিসির সামরিক কর্মকাণ্ড শুধু ইরানকে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রদান করছে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে।

ইরানের সরকার ইতিমধ্যেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সংরক্ষণ এবং হামলার পরবর্তী পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ও সামরিক হুমকি ইঙ্গিত দেয় যে, ইরান কোনোভাবেই বিদেশি হুমকি মোকাবিলা ছাড়া আত্মসমর্পণ করবে না।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।