ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালিয়ে বিলুপ্তপ্রায় ৬৫টি কচ্ছপ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের (৬০ বিজিবি) অধীনস্থ সালদানদী সীমান্ত ফাঁড়ির (বিওপি) একটি বিশেষ টহল দল অভিযান চালিয়ে এগুলো জব্দ করে। তবে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা মালামাল ফেলে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে বন্যপ্রাণী পাচারের উদ্দেশ্যে কসবা উপজেলার শহীদ মিনার এলাকায় কচ্ছপগুলো জড়ো করা হয়েছিল। গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খবর পেয়ে বিজিবির টহল দলটি তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধার করা কচ্ছপগুলোর মধ্যে রয়েছে বিরল প্রজাতির ৪টি বড় ‘পেপসেল টারটেল’ এবং ৬১টি ছোট ‘সন্দি কাসিম’।
পরবর্তীতে দেশের প্রচলিত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন ও বিধিমালা মেনে উদ্ধার করা প্রাণীগুলোকে স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কুমিল্লার সামাজিক বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতিতে কচ্ছপগুলো স্থানীয় সালদা নদীতে নিরাপদে অবমুক্ত করা হয়।
কচ্ছপ অবমুক্ত করার এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন সালদা নদী কোম্পানি কমান্ডার নায়েব সুবেদার মো. মাসুদ, কুমিল্লা সামাজিক বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাজেহার ইসলাম চৌধুরী, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল এবং এলাকার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এ সময় কর্মকর্তারা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য বজায় রাখতে বন্যপ্রাণী রক্ষার তাগিদ দেন। সীমান্তে যেকোনো ধরনের প্রাণী পাচার প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও তাঁরা বিশেষ গুরুত্ব দেন।
সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের (৬০ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম ঘটনা প্রসঙ্গে জানান, সীমান্তে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি মাদক, নারী-শিশু পাচার ও চোরাচালান বন্ধে নিয়মিত কাজ করছে বিজিবি। প্রাকৃতিক সম্পদ ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় তারা বরাবরই কঠোর অবস্থান মেনে চলেন। সীমান্ত দিয়ে বন্যপ্রাণী ও অন্যান্য অবৈধ মালামাল পাচার রোধে আগামী দিনগুলোতেও বিজিবির এমন তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।



