জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক রেয়াত ও প্রত্যর্পণ পরিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং তাঁর স্ত্রী খোদেজা খাতুনের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা আনিসুর রহমানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত সোমবার (১৪ জুলাই) এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। আদালত কর্তৃক এই আদেশের ফলে তাজুল ইসলাম এবং তাঁর স্ত্রীর বিদেশ যাওয়ার পথে বাধা এসেছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, তাজুল ইসলাম বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, যা অনুসন্ধান কার্যক্রমের জন্য বাধা হতে পারে। এই কারণে, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
এছাড়া, আদালত বিশেষ পুলিশ সুপার (ইমিগ্রেশন-প্রশাসন) স্পেশাল শাখাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে, ২০২৪ সালের ২৯ জুন, সাংবাদিক মেহেদী হাসান খান এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন যে কাস্টমস কর্মকর্তা ড. তাজুল ইসলাম দুর্নীতির মাধ্যমে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের দাতা সদস্য হিসেবে লাখ লাখ টাকা খরচ করেছেন এবং তার আয়ের উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই সময় মেহেদী হাসান খান ফেসবুকে মন্তব্য করেন, “তাজুল ইসলামের আয়ের উৎস কী?” এর পর থেকেই তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতে থাকে। প্রাণের ভয়ে গত চার মাস ধরে তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
এমনকি, তাজুল ইসলামের বাড়ি ফুলবাড়িয়ায়, যেখানে এই হুমকির পর মেহেদী হাসান খান নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এটি এমন একটি ঘটনা, যা প্রশাসনের নজরে রেখে শুল্ক বিভাগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
খবরওয়ালা/আরডি



