খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য মো. ইমামুর রশিদ এক নারীর কাছ থেকে সাত লাখ টাকা নিয়েছেন, এমন একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। ভিডিওতে ওই নারী দাবি করেছেন, তিনি এনসিপি তহবিলে ডোনেশন দিয়েছেন, কিন্তু পরে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
ইমামুর রশিদ এ বিষয়ে দাবি করেছেন, ওই নারী স্বেচ্ছায় দলের তহবিলে ‘ডোনেশন’ বাবদ ওই টাকা দিয়েছেন, তবে পরে পার্টির শীর্ষ নেতাদের কাছে ‘ব্যক্তিগত অনৈতিক সুবিধা’ না পেয়ে তিনি ভিডিওটি ধারণ করে ছড়িয়ে দিয়েছেন।
এদিকে, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান এই ঘটনার পেছনে আরও প্রশ্ন তুলেছেন। সোমবার (১৪ জুলাই) তিনি তার ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, ‘আজকে নিশ্চয়ই একজন নেতার স্ক্রিনশট লক্ষ্য করেছেন—এক আপুর কাছে পারটেক্স ও ওয়াল্টনের নাম্বার চাওয়া হচ্ছে (বড় পার্টি ফান্ডের জন্য)।’ এরপর তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘বড় পার্টি ফান্ড কি আসলেই পার্টির ফান্ডে গেছে নাকি নেতার পকেটে গেছে, সেটার নিশ্চয়ই তদন্ত হওয়া উচিত।’
রাশেদ খান আরও বলেন, ‘ডিসি নিয়োগে যে কেলেঙ্কারি হয়েছিল, তার কোনোকিছু মিথ্যা নয়। গাজী সালাউদ্দীন তানভীরের মাধ্যমে দুজন আলোচিত নেতা এই কাজ করিয়েছিল।’
তিনি দাবি করেন যে, এমনকি এনসিটিতে গাজী সালাউদ্দীন তানভীরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, কিন্তু তার গুরুরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাই তিনি মনে করেন, ‘বড় পার্টি ফান্ডের বিষয়ে তদন্ত হওয়া দরকার। কত টাকা পার্টি ফান্ডে গেছে, আর কত টাকা নেতার পকেটে গেছে, এর একটি স্বচ্ছ হিসাব থাকা উচিত।’
এদিকে, এনসিপি নেতা ইমামুর রশিদ তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, ওই নারী নিজে থেকেই দলের ফান্ডে ডোনেশন দিতে চেয়েছিলেন এবং টাকা সংগ্রহের দায়িত্ব তার ওপর দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমি পার্টির একজন সদস্য হিসেবে শুধু আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছি, এর বেশি কিছু নয়।’
ইমামুর রশিদ আরও বলেন, ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি কখনোই ডোনেশনের বিনিময়ে কোনো সহযোগিতা করার কমিটমেন্ট করেনি। এই অভিযোগটি মিথ্যা এবং তিনি যে ৪৮ লক্ষ টাকা ডোনেশনের কথা উল্লেখ করেছেন, সেটাও মিথ্যা।’
তিনি শেষ করেন, ‘আমি মনে করি আমার সর্বোচ্চ যোগ্যতা হলো আমার সততা। যদি আমি কোনো অনৈতিক কাজ করেছি, এর প্রমাণ দিতে পারলে আমি স্বেচ্ছায় শাস্তি মাথা পেতে নেব।’
এনসিপির ফান্ড পলিসি এবং ডোনেশন ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের বিতর্ক এড়ানো যায়, এমনটি জানান ইমামুর রশিদ।
এই পুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা, যারা মনে করেন, অর্থ সংগ্রহের প্রক্রিয়া ও ডোনেশন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
খবরওয়ালা/আরডি