কুড়িগ্রামের উলিপুরে ৭৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. আফজাল হোসেন (৪২) নামে বিএনপির এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে দলীয় পদসহ বিএনপির সব সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের পুরাতন অনন্তপুর বাজার এলাকায় আফজাল হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে ৭৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়।
আফজাল হোসেন হাতিয়া ইউনিয়ন বিএনপির ৪ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। একই দিন রাতে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
কুড়িগ্রাম জেলা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে আফজাল হোসেনকে ৭৪ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
পুলিশের এই বক্তব্যের পর রোববার রাতে আফজাল হোসেনকে সাময়িক অব্যাহতির সিদ্ধান্ত জানায় উপজেলা বিএনপি। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তারিক আবুল আলা চৌধুরী ও সদস্যসচিব হায়দার আলী মিঞা স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেপ্তারের ঘটনা দলের নীতি, আদর্শ, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক ভাবমূর্তির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এ কারণে তাকে দলীয় পদসহ সংগঠনের সব কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
হাতিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ বাতেন বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দলের জন্য ক্ষতিকর। দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠা সংগঠনের ভাবমূর্তির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তারিক আবুল আলা চৌধুরী বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্মে জড়িত হলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ ঘটনায় আরও কেউ সম্পৃক্ত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত মামলা করা হয়েছে। তবে মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় অভিযোগের বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পাশাপাশি মাদকদ্রব্যের উৎস ও ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের আওতায় আসতে পারে।


