খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে ৭ই নভেম্বরের প্রস্তুতি সভা চলাকালে কর্মীদের ওপর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সশস্ত্রে হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সাপমারা এলাকার দলীয় কার্যালয়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীদের উপরোধ ও সংঘর্ষে বিএনপির অন্তত পাঁচ নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যানুযায়ী, ৭ই নভেম্বর উপলক্ষে দলীয় কর্মসূচির প্রস্তুতি নিতে সাপমারা এলাকায় অবস্থিত বিএনপির কার্যালয়ে একটি সভা চলছিল। সভা চলাকালে কার্যালয়ের পাশের একটি দোকানে মানিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মো. জয়নাল আবেদীনের ছোট ভাই মো. আমির হোসেনকে (৪০) দেখতে পান বিএনপির কিছু কর্মী। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা আমির হোসেনকে আটক করে দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে নিয়ে যান।
আমির হোসেনকে আটকে রাখার খবর ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও তাদের স্বজনেরা দ্রুত সংগঠিত হয়ে রামদা, দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বিএনপির কর্মীদের কোপায় এবং মারধর করে আমির হোসেনকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। দেশীয় অস্ত্রের এই হামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাসহ পাঁচজন নেতাকর্মী রক্তাক্ত ও আহত হন। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত অবস্থায় ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে আঘাত গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে শফিকুল ইসলাম সুজন (৩০), মো. শাহাদাত হোসেন (২০) ও মো. সাদ্দাম হোসেন (২৮)—এই তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আহত অপর পরিচিত কর্মী হলেন মো. ফারুক হোসেন (৩০)। মানিকছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান জানান, চিকিৎসাধীনদের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শফিকুল ইসলাম সুজনের অবস্থা সবচেয়ে বেশি নাজুক।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার অভিযোগ করেন, জয়নাল চেয়ারম্যানের ছোট ভাই আমির হোসেনের নেতৃত্বেই আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা ওত পেতে থেকে এই পরিকল্পিত রক্তক্ষয়ী হামলা চালিয়েছে। উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মানিকছড়ি থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মানিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদ চৌধুরী জানান, আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ এলাকা পরিদর্শন করেছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে, তবে এখনও লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।


