বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের পরিচিত ও জনপ্রিয় নাম বাপ্পা মজুমদার। গায়ক, সুরকার ও সংগীতপরিচালক হিসেবে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে চলেছেন তিনি। দীর্ঘ এই সংগীতযাত্রায় অর্জন করেছেন জনপ্রিয়তা, পেয়েছেন অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা। তবে তারকাখ্যাতির আড়ালে রয়েছে জীবনের এমন কিছু গল্প, যা অনেকেরই অজানা। সংগীতজীবনের শুরুর দিনগুলো, প্রথম উপার্জন, ব্যান্ড ‘দলছুট’-এর পথচলা এবং চলচ্চিত্রের গানে কাজ করার অভিজ্ঞতাসহ নানা বিষয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন এই শিল্পী।
প্রয়াত সংগীতশিল্পী ও গীতিকার সঞ্জীব চৌধুরীর সঙ্গে বাপ্পা মজুমদার গড়ে তুলেছিলেন ব্যান্ড দল ‘দলছুট’। বাংলা ব্যান্ডসংগীতে নিজস্ব ধারা তৈরি করা দলটির যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। চলতি বছরের নভেম্বরে দলছুটের ৩০ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ এই সময়ে দলটি বেশ কিছু জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছে, যা এখনো শ্রোতাদের কাছে সমানভাবে সমাদৃত। সঞ্জীব চৌধুরী প্রয়াত হলেও তার স্মৃতি ও সৃষ্টিশীলতার সঙ্গে দলছুটের নাম আজও নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে।
তবে বাপ্পার সংগীতজীবনের শুরুটা ছিল না এতটা আলো ঝলমলে। পেশাদার সংগীতজগতে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার আগে নানা ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে রাজধানীর বিভিন্ন পরিবেশে গিটার বাজানোর কাজ করেছেন। একসময় ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে গিটার বাজিয়ে পেয়েছিলেন জীবনের প্রথম পারিশ্রমিক। সেই অভিজ্ঞতা তার সংগীতজীবনের শুরুর দিকের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা। আজকের পরিচিতি ও প্রতিষ্ঠার পেছনে যে দীর্ঘ পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং নানা প্রতিকূলতা রয়েছে, সেই গল্পেরই একটি অংশ এই প্রথম উপার্জন।
অডিও অ্যালবাম ও ব্যান্ডসংগীতের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের গানেও কাজ করেছেন বাপ্পা মজুমদার। প্রায় দুই দশক আগে এই মাধ্যমে তার কাজ শুরু হলেও চলচ্চিত্রের গানে তার অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম। কেন সিনেমার গানে নিয়মিত কাজ করা হয়নি, সে বিষয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।
বাপ্পার ভাষ্য, চলচ্চিত্রের গানে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ক্ষেত্রে নিজের দুর্বলতার কথাও অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে শিল্পী বলেন, “সিনেমার গানের জন্য ‘যোগাযোগ’ থাকতে হয়। এ বিষয়ে আমি ভীষণ কাঁচা। যোগাযোগ না রাখতে পারলে সিনেমার গানে কাজ করার সম্ভাবনা কমে যায়।”
তার এই বক্তব্যে চলচ্চিত্রের সংগীতজগতে কাজের সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত যোগাযোগের গুরুত্বের বিষয়টি উঠে এসেছে। একজন শিল্পীর সৃজনশীল দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্র তৈরি করতে পেশাগত যোগাযোগও যে ভূমিকা রাখে, বাপ্পার অভিজ্ঞতা তারই ইঙ্গিত দেয়।
সম্প্রতি রুম্মান রশিদ খানের উপস্থাপনায় ‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’ শীর্ষক পডকাস্ট অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন বাপ্পা মজুমদার। সেখানে নিজের সংগীতজীবনের নানা বাঁক, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং প্রচলিত পরিচিতির বাইরের কিছু অজানা অধ্যায় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। তারকা হিসেবে পরিচিত জীবনের বাইরে একজন সংগীতশিল্পীর সংগ্রাম, পেশাগত বাস্তবতা ও ব্যক্তিগত উপলব্ধির বিষয়গুলোও উঠে এসেছে আলোচনায়।
অনুষ্ঠানটির বিশেষত্ব হলো, এখানে অতিথিরা নিজেদের পরিচিত কাজের পাশাপাশি জীবনের এমন কিছু অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সুযোগ পান, যা সাধারণত প্রচলিত সাক্ষাৎকারে খুব একটা আলোচনায় আসে না। বাপ্পা মজুমদারের অংশগ্রহণেও তার দীর্ঘ সংগীতযাত্রার নেপথ্যের গল্প এবং নানা অভিজ্ঞতা জানার সুযোগ পাবেন দর্শক-শ্রোতারা।
অনুষ্ঠানটি আজ রোববার (১ নভেম্বর) রাত ৯টায় মাছরাঙা টেলিভিশনে প্রচারিত হবে। একই সময়ে রেডিও দিনরাত ৯৩.৬ এফএমেও একযোগে সম্প্রচার করা হবে।
তিন দশকের বেশি সময় ধরে সংগীতের সঙ্গে যুক্ত থাকা বাপ্পা মজুমদারের এই কথোপকথন তার ভক্তদের কাছে বিশেষ আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে দলছুটের তিন দশকের পথচলার প্রাক্কালে তার সংগীতজীবনের শুরুর গল্প, প্রথম পারিশ্রমিক পাওয়ার স্মৃতি এবং চলচ্চিত্রের গানে কাজের অভিজ্ঞতা নতুন করে আলোচনায় আসার সুযোগ তৈরি করেছে।


