নিজ সংবাদ ॥ জীবন যুদ্ধে হার না মানা শাপলার পাশে কুষ্টিয়ার নারী উদ্যোক্তারা, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হরিপুর গ্রামের মন্ডল পাড়ার চাঁদ আলীর মেয়ে শারিরীক প্রতিবন্ধী শাপলা। ছোট থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধী, পরিবারে ছিল আর্থিক অনটন। অবহেলা-বঞ্চনার শিকার হয়েছেন পদে পদে। কিন্তু অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে আজ তিনি সমাজের বোঝা নন।
জীবন যুদ্ধে হার না মানা শাপলার পাশে কুষ্টিয়ার নারী উদ্যোক্তারা
উচ্চশিক্ষিত হয়েও ভ্যান চালিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে নারী উদ্যোক্তারা এগিয়ে এসেছে। এবং তার হাতে তুলে দিয়েছে নগদ অর্থ। গত সোমবার বিকেলে শাপলার হাতে ১০ হাজার টাকা তুলে দেন তারা। এসময় খুলনা বিভাগীয় জয়িতা ও নারী উদ্যোক্তা সাবিনা সারমিন, হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এম শম্পা মাহামুদ, নারী উদ্যোক্তা ও কুষ্টিয়া জেলা উই এর প্রতিনিধি নাইমা রাসিদা বিপলি, সমাজে পিছিয়ে পড়া নারীদের নিয়ে কাজ করা সফল নারী উদ্যোক্তা মমতাজ পারভিন কাকলি, অনলাইন প্লাটফর্ম এর বাউশ কুউপ এর এডমিন হোসনে আরা জামান, আসমাউল হুসনা বিথি উপস্থিত ছিলেন। নারী উদ্যোক্তা সাবিনা সারমিন জানান, শাপলা খাতুন একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। তিনি নিজ উদ্যোগে ব্যবসা করে জীবনযাপন করছেন। পাশাপাশি পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
সব প্রতিবন্ধীর জন্য শাপলা অনুপ্রেরণার নাম। আমরা নারী উদ্যোক্তারা মিলে সহযোগিতার হাত দাঁড়িয়ে তাকে আরেকটু এগিয়ে যেতে চেষ্টা করছি। আশা করি, ভবিষ্যতে তিনি আরও সফল হবেন। তিনি আরও বলেন, আমাদের সংগঠনের সদস্যরা ছাড়াও আমাদের এ কাজে সহযোগিতার জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ঐতবৃ কেমিক্যাল ওয়ার্কসের স্বত্বাধিকারী ফজলে করিম খোকা। যিনি সবসময়ই নিরলসভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি সমাজে পিছিয়ে পড়া নারীদের পাশে থেকে অনুপ্রেরণা যোগানোর জন্যও নিবেদিত প্রাণ হিসেবে। হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান এম শম্পা মাহমুদ বলেন, শাপলা খাতুন প্রতিবন্ধী নারী হয়েও উচ্চশিক্ষিত হয়েছেন সেবামূলক কার্যক্রমে যুক্ত।

ইঞ্জিনচালিত ভ্যাননিয়ে গ্রাম থেকে শহরে ছুটে বেড়ান। ফার্নিচার ও খাদ্যসামগ্রীসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের ব্যবসা করেন। শহর থেকে ভ্যানে করে পণ্য বহন করে গ্রামের গ্রাহকদের দরজায় পৌঁছে দেন। একজন নারী হয়েও ব্যবসা করে সংসার চালাচ্ছেন, সফলতা পেয়েছেন, এটা সমাজের জন্য বিশাল ব্যাপার। এলাকায় তিনি সুনাম অর্জন করেছেন। এতকিছুর পরও তাকে সমাজে মাঋা উঁচু করে দাঁড়াতে নারী উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে আমরা তার পাশে দাঁড়ালাম।
আরও দেখুন:




