জুলাই গণ-আন্দোলনের বীরদের আইনি সুরক্ষা দিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতাকে সব ধরণের আইনি হয়রানি থেকে রক্ষা করতে একটি বিশেষ দায়মুক্তি অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

আইনি সুরক্ষার প্রেক্ষাপট ও প্রয়োজনীয়তা

আইন উপদেষ্টা জানান, বিগত সরকারের শাসনকালে এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরণের প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা যেন না নেওয়া হয়, সেটি নিশ্চিত করাই এই আইনের প্রধান লক্ষ্য। জুলাই ও আগস্ট মাসে রাজনৈতিক প্রতিরোধের সময় যদি কারো বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা হয়ে থাকে, তবে সরকার নিজ উদ্যোগে সেগুলো প্রত্যাহার করবে। এছাড়া ওই সময়কার কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য ভবিষ্যতে কাউকেও নতুন করে কোনো আইনি জটিলতায় ফেলা যাবে না।

সাংবিধানিক ভিত্তি ও যৌক্তিকতা

অধ্যাপক আসিফ নজরুল এই বিশেষ আইনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন যে, এটি কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয় বরং সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি প্রক্রিয়া। এর সপক্ষে তিনি প্রধান কিছু যুক্তি তুলে ধরেন:

  • সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদ: বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদে জাতীয় প্রয়োজনে বিশেষ দায়মুক্তি আইন প্রণয়নের স্পষ্ট ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়েছে।

  • বিপ্লবের স্বীকৃতি: জীবন বাজি রেখে যারা রাষ্ট্র সংস্কারের লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন, তাদের আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।

  • বৈশ্বিক নজির: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আন্দোলনকারীদের সুরক্ষায় এই ধরণের ‘ইমিউনিটি’ বা দায়মুক্তি আইন প্রণয়নের ইতিহাস রয়েছে।

প্রস্তাবিত এই আইনের প্রধান দিকগুলো নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:

বিষয়বস্তু বিস্তারিত তথ্য
আইনের লক্ষ্য জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের আইনি নিরাপত্তা প্রদান।
মামলার ভবিষ্যৎ পূর্ববর্তী মামলা প্রত্যাহার এবং নতুন মামলা রুজু না করা।
আওতাধীন সময় জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর গণ-আন্দোলনের সময়কাল।
সাংবিধানিক ভিত্তি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদ।
তদারকি আইন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষ সেল।

প্রশাসনিক পদক্ষেপ

আইন উপদেষ্টা আরও জানান, সরকার ইতিমধ্যে সারাদেশে খোঁজ নেওয়া শুরু করেছে যে আন্দোলনের সাথে জড়িত কারো বিরুদ্ধে কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা হয়েছে কিনা। যদি এ ধরণের কোনো তথ্য পাওয়া যায়, তবে তা দ্রুত নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, যারা অত্যাচারী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তাদের কর্মকাণ্ড অপরাধ নয় বরং দেশপ্রেম হিসেবে গণ্য হবে।

এই আইন অনুমোদনের ফলে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার মধ্যে দীর্ঘদিনের আইনি ভীতি দূর হবে এবং দেশ সংস্কারের কাজে তারা আরও আত্মবিশ্বাসের সাথে অংশ নিতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।