খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 1শে ভাদ্র ১৪৩২ | ১৬ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
টানা এক বছর বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন এমপিওভুক্ত অধ্যক্ষ-প্রধান শিক্ষকসহ সহস্রাধিক সহকারী শিক্ষক। ইলেকট্রিক ফান্ড ট্রান্সফারে (ইএফটি) নাম অন্তর্ভুক্ত করে বেতন চালুর জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) তিন দফা নির্দেশ দিলেও অনেক প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান তা মানেননি।
কার্যকর পদক্ষেপ ও স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে গত ১২ আগস্ট শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেয় পদ-বঞ্চিত প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষক জোট। এতে তিনজন অধ্যক্ষ ও তিনজন প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষর করেন। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, হেনস্তার শিকার সাড়ে ৩ হাজার শিক্ষকের মধ্যে শারীরিক ও মানসিক আঘাতে ছয়জন মারা গেছেন। পাঁচ শতাধিক শিক্ষক আহত বা অসুস্থ হয়ে বিনা চিকিৎসায় মুমূর্ষু অবস্থায় আছেন। আর্থিক সংকটে অনেকের সন্তানের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
চারজন শিক্ষক গণমাধ্যমকে জানান, এক বছর ধরে বেতন বন্ধ থাকায় জীবন অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করে কাটছে। পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দুর্নীতিবাজ কিছু শিক্ষককে শিক্ষার্থীরা পদত্যাগে বাধ্য করলে সুযোগ নেয় এক শ্রেণির শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের দিয়ে জোর করে সাড়ে ৩ হাজার শিক্ষককে পদত্যাগ করানো হয়। ঘটনাটি আলোচিত হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ ধরনের পদত্যাগ বন্ধের নির্দেশ দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকরা ন্যয়বিচারের দাবিতে রাজপথে আন্দোলনও করেছেন।
গত ১৯ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো শিক্ষকদের বেতন অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেয়। এতে বলা হয়, তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত বেতন-ভাতা চালু থাকবে। পরবর্তীতে আরও দুই দফা নির্দেশনা দেওয়া হলেও সাড়ে ৩ হাজারের মধ্যে ২ হাজার ৪৫০ জনের ইএফটিতে নাম যুক্ত হয়, বাকিদের বেতন বন্ধ রয়ে যায়।
পদ-বঞ্চিত শিক্ষক জোটের আহ্বায়ক আনোয়ারুল ইসলাম তালুকদার জানান, তারা কখনো রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন না, তবু রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে কর্মস্থলে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। সততা ও নৈতিকতার সঙ্গে কাজ করায় ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের প্রধান শিক্ষক মনি আক্তার মিলি অভিযোগ করেন, অনৈতিক সুবিধা নিতে এক শ্রেণির ভারপ্রাপ্ত প্রধান সরকারি নির্দেশ মানছেন না, ফলে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
গত বছরের আগস্টে শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জোর করে পদত্যাগ ও অপমান বন্ধের আহ্বান জানান। পরে ৩ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপনে জোরপূর্বক পদত্যাগ গ্রহণযোগ্য নয় ঘোষণা করা হয়। ১৪ জানুয়ারি সমস্যার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বেতন চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঢাকা জেলাতেই দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠান প্রধান পদত্যাগে বাধ্য হন, যার মধ্যে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, লেক সার্কাস বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, সরকারি তিতুমীর কলেজসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এখনও বিদ্যমান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চলছে, তদন্ত চলাকালে সবার বেতন চালু থাকবে। অনিয়ম প্রমাণিত না হলে চাকরি ফিরে পাবেন, আর অনিয়ম ধরা পড়লে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন