টেকনাফে বসতঘরে ঢুকে গুলিবর্ষণ, শিশুসহ আহত দুই

কক্সবাজারের টেকনাফে মাদক পাচারের দৃশ্য দেখে ফেলার জেরে একটি বসতঘরে ঢুকে গুলিবর্ষণ ও হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ‘মান্নান বাহিনীর’ বিরুদ্ধে। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মিনাবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ১২ বছর বয়সী এক শিশুসহ দুই চাচাতো ভাই আহত হয়েছে। শিশুটির পেটে গুলি লেগেছে। গুরুতর অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহত ব্যক্তি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আহত দুজন হলো মিনাবাজার এলাকার রাজা মিয়ার ছেলে আহমেদ নুর এবং মোস্তাকের ছেলে আরাফাত। তাদের চাচা হাফেজ জয়নালের বসতবাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় মোস্তাক হোয়াইক্যংয়ের মিনাবাজার সীমান্তসংলগ্ন একটি খালে জাঁকিজাল দিয়ে মাছ ধরতে যান। তাঁর চাচা হাফেজ জয়নালের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত সাড়ে ৭টার দিকে মোস্তাক সীমান্ত পেরিয়ে আসার সময় ইউসুফ আলীর দুই ছেলে মান্নান ও সালেহকে মাদকের চালান নিয়ে আসতে দেখেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ দৃশ্য দেখে ভীত হয়ে মোস্তাক বাড়িতে ফিরে আসেন।

জয়নালের দাবি, মোস্তাক তাঁদের বাড়িতে ফিরে আসার খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মান্নান ও সালেহর নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাঁদের বসতঘরে আসে। এরপর তারা গুলিবর্ষণ ও হামলা চালায়। এ সময় আহমেদ নুরের পেটে গুলি লাগে। আরাফাত ছুরিকাঘাতে আহত হয়।

তবে মাদক পাচারের দৃশ্য দেখা নিয়ে বিরোধের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলার সঙ্গে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

৯৯৯-এ ফোন, পুলিশ যাওয়ার খবরে হামলাকারীরা পালায়

হামলার পর পরিস্থিতির অবনতি হলে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশি সহায়তা চাওয়া হয়। হাফেজ জয়নালের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ ঘটনাস্থলে আসছে—এমন খবর পেয়ে হামলাকারীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয় লোকজন আহত দুজনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহমেদ নুরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। আরাফাত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

১২ বছর বয়সী শিশুর পেটে গুলি লাগার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বসতবাড়িতে ঢুকে এ ধরনের হামলার অভিযোগের কারণে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে ঘটনার সময় ঠিক কতজন হামলাকারী উপস্থিত ছিল, কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এবং গুলিবর্ষণের পরিস্থিতি কী ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশ বলছে, আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন

হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক হাফিজ জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, মিনাবাজারের এ ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

তবে এখন পর্যন্ত অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। হামলার অভিযোগ, আহতদের জবানবন্দি, ঘটনাস্থলের আলামত এবং স্থানীয়দের বক্তব্য যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।

সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় সেখানে মাদক চোরাচালানসংক্রান্ত অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ উঠলেই তা প্রমাণিত বলে ধরে নেওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে কোনো বিরোধ বা অপরাধের ঘটনা প্রত্যক্ষ করার অভিযোগে বসতবাড়িতে হামলা, গুলিবর্ষণ কিংবা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার মতো ঘটনা জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি। বিশেষ করে শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে পড়লে বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে।

মিনাবাজারের এ ঘটনায় আহত দুই চাচাতো ভাইয়ের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা এখন পরিবারের প্রধান উদ্বেগ। পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, হামলার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার বিষয়েও পুলিশের পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয়রা।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।