ডলার সরবরাহে শীর্ষ অবস্থানে ইসলামী ব্যাংক

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি চলতি অর্থবছরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ কার্যক্রমে মার্কিন ডলার সরবরাহে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে পরিমাণ মার্কিন ডলার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে সংগ্রহ করেছে, তার প্রায় এক-পঞ্চমাংশই সরবরাহ করেছে এই ব্যাংকটি।

ভাসমান বিনিময় হার কাঠামোর আওতায় বাজারে ডলার ও টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক গত বছরের ১৩ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত ওঠানামা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়।

এই সময়ে মোট ৩৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করে। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি একাই ১ হাজার ২২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সরবরাহ করেছে, যা মোট ক্রয়ের একটি বড় অংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে এই লেনদেনের মাধ্যমে বাজারে বিপুল পরিমাণ দেশীয় মুদ্রা প্রবাহিত হয়েছে।

শীর্ষ ডলার সরবরাহকারী ব্যাংকের তালিকা

ক্রম ব্যাংকের নাম বিক্রিত ডলার (মিলিয়ন মার্কিন ডলার)
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ১২২৫
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ১০২০
ট্রাস্ট ব্যাংক ৬৩৩
ব্যাংক এশিয়া ২৭২
সিটি ব্যাংক ২৫৮
পূবালী ব্যাংক ১৮৪
ঢাকা ব্যাংক ১৮১
ডাচ্ বাংলা ব্যাংক ১৭৩
সাউথইস্ট ব্যাংক ১৫৮
১০ ইস্টার্ন ব্যাংক ১৪০
১১ মার্কেন্টাইল ব্যাংক ১২২
১২ ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ১২০
১৩ যমুনা ব্যাংক ১১১
১৪ মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ১০৯
১৫ অগ্রণী ব্যাংক ১০৫

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভাসমান বিনিময় হার ব্যবস্থায় যেসব ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা আয় চাহিদার তুলনায় বেশি, তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে। এর মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য আনার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, যেসব ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা আয় তাদের আন্তর্জাতিক লেনদেনের চেয়ে বেশি, সেগুলোকে দীর্ঘ অবস্থানধারী ব্যাংক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে যেসব ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা আয় তুলনামূলক কম কিন্তু ব্যয় বেশি, সেগুলো স্বল্প অবস্থানে থাকে। এই দুই ধরনের অবস্থানের ভিত্তিতেই বাজারে ডলার প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

একটি শীর্ষ ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, তাদের ব্যাংকের প্রবাসী আয়ের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমদানি ব্যয় কমে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে অতিরিক্ত ডলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, আন্তর্জাতিক লেনদেন নিষ্পত্তির পর ব্যাংকের হাতে অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা থেকে যায়, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে বিক্রি করা সম্ভব হয়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের ওপর আস্থার কারণে ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ শক্তিশালী থাকায় তারা এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পেরেছেন।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।