দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনকই রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৫৬ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৩ জনে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে। এ অঞ্চলে নতুন করে ২৫১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরপর রয়েছে খুলনা বিভাগ, যেখানে ১৯৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বরিশাল বিভাগেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে রয়েছে। গত এক দিনে এ বিভাগে ১৪৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ১০৩ জন। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকাতেও নতুন রোগী শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১০৮ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৭৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৮ জন এবং রংপুর বিভাগে ৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সিলেট বিভাগে নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা সাতজন।
চলতি বছরের শুরু থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৫০ হাজার ২৭৬ জন চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ইতোমধ্যে ৪৬ হাজার ৬৯৯ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। অর্থাৎ, বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তির ধারাবাহিকতা এখনো রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ১৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে দুজনের মৃত্যু এই সংখ্যায় যোগ হয়েছে। প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনাও অব্যাহত থাকায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে এডিস মশার প্রজননস্থল নির্মূল করা গুরুত্বপূর্ণ। জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত পাত্র, ফুলের টব, নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি কিংবা যেসব স্থানে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি জ্বর বা ডেঙ্গুর সম্ভাব্য উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়েও সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে নগর ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মশার প্রজননস্থল নিয়মিত পরিষ্কার করা গেলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। চলমান পরিস্থিতিতে নতুন রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়ছে কি না, সেদিকেও নজর রাখছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।


