ডেঙ্গুতে আরও ২ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,২৩২

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২৩২ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে দুজনের মৃত্যুর ফলে চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৮ জনে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া দুজনই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।

একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন। নতুন রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪১৪ জন, ময়মনসিংহে ৫৪, চট্টগ্রামে ১৯৪, খুলনায় ২৫৮, বরিশালে ১৭৭, রাজশাহীতে ৮২, রংপুরে ৪৭ এবং সিলেট বিভাগে ছয়জন রয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ড্যাশবোর্ডে প্রকাশিত হিসাবেও ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৩২ জন দেখানো হয়েছে।

এ নিয়ে ২০২৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার ৩৭৯ জনে। অর্থাৎ চলতি বছর ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৬০ হাজারের সীমা ছাড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২৩২ জন ডেঙ্গুরোগী চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্রও পেয়েছেন। ফলে চলতি বছর এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ৫৬ হাজার ৭০ জন। নতুন ভর্তি ও ছাড়পত্রের সংখ্যা একই হলেও এগুলো একই রোগীর ক্ষেত্রে ঘটেছে—এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই; এগুলো গত ২৪ ঘণ্টার পৃথক পরিসংখ্যান।

চলতি বছরের পরিস্থিতির সঙ্গে আগের বছরের তথ্যের তুলনাও গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০২৫ সালের পুরো বছরে দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং মারা গিয়েছিলেন ৪১৩ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের।

ডেঙ্গু সাধারণত এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। নগর ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এ মশার বংশবিস্তার হতে পারে। তাই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়াই নয়, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়তে পারে। ফলে নিয়মিতভাবে বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন এবং আশপাশের জমে থাকা পানি পরীক্ষা করে তা অপসারণের ওপর জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। নতুন করে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় ব্যক্তি পর্যায়ের সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমও অব্যাহত রাখা জরুরি।

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ডেঙ্গু পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য তথ্য:

সূচক সংখ্যা
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন হাসপাতালে ভর্তি ১,২৩২ জন
গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ২ জন
চলতি বছরে মোট হাসপাতালে ভর্তি ৬০,৩৭৯ জন
চলতি বছরে মোট মৃত্যু ১৭৮ জন
চলতি বছরে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র ৫৬,০৭০ জন
ঢাকা বিভাগে নতুন ভর্তি ৪১৪ জন
ময়মনসিংহ বিভাগে নতুন ভর্তি ৫৪ জন
চট্টগ্রাম বিভাগে নতুন ভর্তি ১৯৪ জন
খুলনা বিভাগে নতুন ভর্তি ২৫৮ জন
বরিশাল বিভাগে নতুন ভর্তি ১৭৭ জন
রাজশাহী বিভাগে নতুন ভর্তি ৮২ জন
রংপুর বিভাগে নতুন ভর্তি ৪৭ জন
সিলেট বিভাগে নতুন ভর্তি ৬ জন
২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১,০২,৮৬১ জন
২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৪১৩ জন
২০২৪ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১,০১,২১৪ জন
২০২৪ সালে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৫৭৫ জন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, ডেঙ্গুর চাপ এখনো উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিদিন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। ফলে আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনার পাশাপাশি সংক্রমণের উৎস—এডিস মশার প্রজননস্থল—নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়া জরুরি।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।