রাজধানীর ডেমরায় থানা কৃষক দলের সদস্য সচিব মো. মমিনকে মোবাইল ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে থানা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা চেয়ে ডেমরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন মমিন। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত সোয়া ১টার দিকে তাঁর বাসার নিচে অবস্থান করে হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
জিডি সূত্রে জানা যায়, ডেমরা থানাধীন মহাকাশ রোডে নিজের বাসায় অবস্থান করছিলেন মো. মমিন। এ সময় তাঁর মোবাইল ফোনে একটি হোয়াটসঅ্যাপ কল আসে। কলের অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে সহযোগীদের নিয়ে মমিনের বাসার নিচে অবস্থান করছেন বলে জানান। তাঁকে বাসা থেকে নিচে নেমে আসার জন্য চাপ দেওয়া হয়। অন্যথায় সুযোগ বুঝে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের খুন-জখম করার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন মমিন।
মমিনের দাবি, ফোনে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর বাসার নিচে লোকজনের উপস্থিতির কথা জানানোয় তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, যেকোনো সময় তাঁদের ওপর হামলা বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জিডি নিতে পুলিশের অস্বীকৃতির অভিযোগ
ঘটনার পর অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ডেমরা থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে পুলিশ প্রথমে তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায় বলে অভিযোগ করেছেন মমিন। পরে ওই রাতেই সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোন নম্বর উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে জিডি নথিভুক্ত করা হয়।
তবে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয়, তাঁর সঙ্গে মমিনের পূর্বপরিচয় বা কোনো বিরোধ ছিল কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে হোয়াটসঅ্যাপ কলের নম্বরের মালিকানা এবং কলের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তির পরিচয়ও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
এ ধরনের ঘটনায় অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি হুমকিতে ব্যবহৃত ফোন নম্বর, কলের সময় ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। এতে কলদাতার পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
প্রতিবাদ মিছিল, নেতাকর্মীদের উদ্বেগ
মমিনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার রাতেই ডেমরা থানা কৃষক দলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। ডেমরার বড় ভাংগা এলাকায় আয়োজিত এ মিছিলে তাঁরা ঘটনার প্রতিবাদ জানান।
স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে এ ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় বা সাংগঠনিক অবস্থান যা-ই হোক, কোনো ব্যক্তিকে কিংবা তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বাসার নিচে অবস্থানের কথা জানিয়ে কাউকে বাইরে আসতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হলে তা ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়াতে পারে।
আইনগত ব্যবস্থা চলমান: পুলিশ
এ বিষয়ে ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তাইফুর রহমান মির্জা বলেন, ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তা চলমান রয়েছে।
তবে তদন্তের অগ্রগতি, হুমকিদাতার পরিচয় শনাক্ত কিংবা অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
মমিনের করা জিডির ভিত্তিতে অভিযোগের যথাযথ তদন্ত এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি হুমকির সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বিরোধ বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও তাঁর সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।


