নারায়ণগঞ্জ শহরের ১ নম্বর বাবুরাইল এলাকা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও সাত রাউন্ড তাজা গুলিসহ মোজাম্মেল হক রাজন (৩৯) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, সরকারি কাজে বাধা প্রদানসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত সোয়া ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার মোজাম্মেল হক রাজন মো. সিরাজ মিয়া ও হালিমা বেগমের ছেলে। তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার আওতাধীন ১ নম্বর বাবুরাইল এলাকার ঋষিবাড়ীসংলগ্ন গনি মিয়ার একটি টিনশেড বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানের সময় তাঁর কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও সাত রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ কী উদ্দেশ্যে তাঁর কাছে ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানায়নি পুলিশ। তবে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে।
হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে রাজনের বিরুদ্ধে
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মোজাম্মেল হক রাজন একজন চিহ্নিত দুষ্কৃতকারী। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়াসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে তিনটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার বিষয়টি সামনে আসায় তাঁর গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা প্রতিটি মামলার অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। ফলে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করার সুযোগ নেই।
অস্ত্র আইনে মামলা, আদালতে সোপর্দ
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুর রহমান জানান, অবৈধ বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ গ্রেপ্তার রাজনের বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন থানায় হত্যা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়াসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় রাজনের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অস্ত্র আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের তৎপরতা
নারায়ণগঞ্জের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের উপস্থিতি জননিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ। বিশেষ করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। এ কারণে অবৈধ অস্ত্রের উৎস, সরবরাহ এবং ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনের কাছ থেকে উদ্ধার করা বিদেশি পিস্তলটির উৎস, সেটি কীভাবে তাঁর কাছে এসেছে এবং কোনো অপরাধে এটি ব্যবহৃত হয়েছে কি না, সেসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে উদ্ধার করা সাত রাউন্ড গুলির বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন মামলার তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।


