সোনাল দিনুশা যেন একাই কলম্বো টেস্টে শ্রীলঙ্কার শেষ দুর্গ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করে ভারতীয় বোলিংকে চাপে ফেলা এই বাঁহাতি ব্যাটার দ্বিতীয় ইনিংসেও একই দৃঢ়তা দেখাচ্ছেন। দায়িত্বশীল অর্ধশতক তুলে নিয়ে তিনি এখনো অপরাজিত, আর তাঁর ব্যাটেই টিকে আছে শ্রীলঙ্কার প্রতিরোধ। ফলে একসময় ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকা দ্বিতীয় টেস্ট এখন ফলাফলহীনভাবে শেষ হওয়ার দিকেই এগোচ্ছে।
পঞ্চম দিনের দ্বিতীয় সেশন পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৫৩ রান তুলেছে। তাদের লিড পৌঁছে গেছে ১৪০ রানে। হাতে রয়েছে আর মাত্র তিন উইকেট। ভারতের সামনে তাই কাজ দুটি—দ্রুত বাকি তিন উইকেট তুলে নেওয়া এবং এরপর অল্প সময়ের মধ্যে শ্রীলঙ্কার দেওয়া লক্ষ্য অতিক্রম করা। কাজটি কঠিন, বিশেষ করে কলম্বোর সম্ভাব্য বৃষ্টির কথা মাথায় রাখলে।
ম্যাচের শেষ দিনে বৃষ্টি হলে খেলার কার্যকর সময় কমে যেতে পারে। তাতে ভারতীয় দলের জয়ের সম্ভাবনা আরও সংকুচিত হবে। কারণ শ্রীলঙ্কার শেষ ব্যাটারদের ফিরিয়ে দিয়ে রান তাড়া করার জন্য যত বেশি সময় প্রয়োজন, বৃষ্টির কারণে সেই সময়ই কমে আসতে পারে।
এই টেস্টের ফল ভারতের জন্য শুধু একটি ম্যাচের জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়। এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে আছে চলমান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার সমীকরণ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে বড় জয় নিয়ে ভারত নিজেদের অবস্থান শক্ত করার সুযোগ তৈরি করেছিল। দ্বিতীয় টেস্টেও জয় পেলে সেই অগ্রযাত্রা আরও জোরালো হতো। কিন্তু ম্যাচ ড্র হলে সেই সুবিধার বড় অংশই নষ্ট হয়ে যাবে।
বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, ভারত ৫৩.৩৩ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে। এই টেস্টে জয় পেলে এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের বড় হার হলে ভারত চতুর্থ স্থানে উঠে আসার সুযোগ পেত। কিন্তু ড্র হলে ভারতের পয়েন্ট শতাংশ কমে প্রায় ৫১.৫২-এ নেমে যাবে। অর্থাৎ অবস্থানের উন্নতি তো হবেই না, বরং ফাইনালের দৌড়ে চাপ আরও বাড়বে।
ভারতের জন্য বড় সমস্যা হলো, বর্তমান চক্রে ইতিমধ্যে ১০টি টেস্ট খেলে চারটিতে হার রয়েছে। শ্রীলঙ্কা সফর শেষ হওয়ার পরও তাদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ম্যাচ থাকবে। নভেম্বর মাসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ খেলবে ভারত। এরপর চলতি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রের শেষ পর্বে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ রয়েছে। ফলে সামনে থাকা প্রতিটি ম্যাচের ফলই ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
ভারতের সম্ভাব্য পয়েন্টের হিসাবও পরিস্থিতির গুরুত্ব স্পষ্ট করছে। কলম্বো টেস্টসহ বাকি আটটি টেস্টের অন্তত সাতটিতে জয় পেলে ভারতের পয়েন্ট শতাংশ প্রায় ৬৮.৫২-এ উঠতে পারে। বিপরীতে ছয়টি জয় ও দুটি হার হলে তা নেমে প্রায় ৬২.৯৬ শতাংশে দাঁড়াবে। অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত শুধু কয়েকটি জয় যথেষ্ট নাও হতে পারে; ধারাবাহিক সাফল্য প্রয়োজন হবে।
এই কারণেই কলম্বো টেস্টের শেষ দিনটি ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়ার তাড়া, অন্যদিকে সম্ভাব্য বৃষ্টির চাপ—দুই দিক সামলেই রান তাড়ায় যেতে হবে শুভমান গিলের দলকে। শ্রীলঙ্কার ব্যাটাররা যত বেশি সময় উইকেটে কাটাবেন, ভারতের হাতে লক্ষ্য তাড়া করার সময় তত কমবে।
সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন দিনুশা। প্রথম ইনিংসে তাঁর শতরানের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও অপরাজিত অর্ধশতক ভারতীয় বোলারদের পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তাঁকে দ্রুত ফেরাতে না পারলে শ্রীলঙ্কার লিড আরও বাড়তে পারে।
প্রথম টেস্টের দাপুটে জয়ের পর ভারত যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে নেমেছিল, শেষ দিনে এসে সেই দলই এখন কঠিন পরীক্ষার মুখে। ম্যাচটি ড্র হলে শুধু একটি জয় হাতছাড়া হবে না, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে যাওয়ার পথও আরও কঠিন হয়ে উঠবে। তাই কলম্বোর শেষ দিনের প্রতিটি বল এখন ভারতের জন্য কার্যত নকআউট লড়াইয়ের সমান গুরুত্বপূর্ণ।


