খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে পৌষ ১৪৩২ | ৪ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের এক মর্মান্তিক ও নৃশংস বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। বসতভিটার দখল ও সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে আপন চাচার বসতবাড়িসহ নিজের ঘরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার বরুমছড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভরারচর এলাকার আব্দুল হাকিম চৌকিদার বাড়িতে এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত যুবকের নাম মো. মহিউদ্দিন (২৭), যাকে ঘটনার পরপরই পুলিশ আটক করেছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মহিউদ্দিনের পরিবারের সাথে তার চাচাদের বসতভিটার জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল। শনিবার দুপুরে সেই বিরোধ চরম আকার ধারণ করলে মহিউদ্দিন স্থানীয় একটি দোকান থেকে কেরোসিন কিনে আনেন। প্রথমে তিনি নিজের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেন এবং মুহূর্তেই সেই আগুন পার্শ্ববর্তী তার চাচাদের তিনটি ঘরে ছড়িয়ে দেন। আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত বাড়তে থাকায় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে চারটি বসতঘর ও ঘরে থাকা মূল্যবান মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন শামসুর ইসলাম, মো. নুরুল ইসলাম, মো. আব্দুল আলিম ও মো. রহিম। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, আগুনে তাদের আসবাবপত্র, গচ্ছিত নগদ অর্থ, প্রয়োজনীয় দলিলপত্র ও খাদ্যশস্যসহ প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আনোয়ারা ফায়ার স্টেশনের সাব-অফিসার মো. আব্দুল্লাহ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলোর মধ্যে একটি সেমিপাকা এবং তিনটি মাটির ঘর ছিল। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ চার লক্ষ টাকা ধরা হলেও উদ্ধারকৃত মালামালের মূল্য প্রায় ২০ লক্ষ টাকা।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত চিত্র
| ক্ষতিগ্রস্ত গৃহকর্তার নাম | ঘরের কাঠামো | ক্ষয়ক্ষতির ধরন | আনুমানিক আর্থিক ক্ষতি |
|---|---|---|---|
| শামসুর ইসলাম | সেমিপাকা ভবন | আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও ইলেকট্রনিক্স | ১০,০০,০০০ টাকা |
| মো. নুরুল ইসলাম | মাটির ঘর | ঘরের কাঠামো ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী | ৪,০০,০০০ টাকা |
| মো. আব্দুল আলিম | মাটির ঘর | ঘরের আসবাব ও কাপড়চোপড় | ২,০০,০০০ টাকা |
| মো. রহিম | মাটির ঘর | খাদ্যশস্য ও গৃহস্থালি আসবাব | ২,০০,০০০ টাকা |
| মো. মহিউদ্দিন (অভিযুক্ত) | মাটির ঘর | সম্পূর্ণ ভস্মীভূত | ২,০০,০০০ টাকা |
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে জমি সংক্রান্ত পারিবারিক কলহের জেরে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত মহিউদ্দিনকে আটক করে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়রা দোষী যুবকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।