শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে সাধারণ জনগণ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। যান চলাচল সীমিত হওয়ায় রাজধানীজুড়ে যানজট তীব্র হয়ে উঠেছে, বিশেষত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশ চলার কারণে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশ চলছে। সমাবেশে অংশ নিতে সারা দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী রাজধানীতে এসেছেন। এতে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের সংখ্যা বাড়ে এবং তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। জামায়াতে ইসলামীর ফেসবুক পেজে নগরবাসীর কাছে যানজটের কারণে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে জামায়াতে ইসলামী দলের নেতা-কর্মীরা ঢাকায় আসতে শুরু করেন। আজ সকাল থেকে আরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়, বিশেষ করে গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে। ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে এই অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে সড়কগুলোতে যানজটের সৃষ্টি হয়।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশেষ কারণ ছাড়া সাধারণ যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া শাহবাগ থেকে ধানমন্ডি, ফার্মগেটের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচলও সীমিত হয়ে পড়ে। মিরপুর রোড থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ হয়ে খামারবাড়ির সড়ক পর্যন্ত শত শত যানবাহন আটকে ছিল ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
রমনা, মৎস্য ভবন, জাতীয় প্রেসক্লাব, পুরানা পল্টন, গুলিস্তানসহ দক্ষিণ দিকের অনেক সড়কে দীর্ঘ সময় যানজট দেখা যায়। একে একে উত্তর ও পশ্চিম দিকেও যানবাহন আটকা পড়ে, বিশেষ করে মহাখালী থেকে তেজগাঁও, কাকরাইল পর্যন্ত সড়কে যানজট ছিল প্রবল।
বিমানবন্দর থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহন নিচে নামতে গিয়ে বনানী, তেজগাঁও, কারওয়ান বাজারের র্যাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে ছিল। সমাবেশে আসা বহু নেতা-কর্মী বাস থেকে নেমে হেঁটে সমাবেশের দিকে যাচ্ছিলেন।
মোহাম্মদপুর থেকে বাসে করে মতিঝিল যাওয়ার পথে খামারবাড়ির সামনে যানজটে আটকে পড়েন ব্যবসায়ী রফিক। ঘণ্টাখানেক অপেক্ষার পর তিনি বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে রওনা দেন।
যানজটের কারণে শাহবাগে রাইডশেয়ারের মোটরসাইকেল বা ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের সংখ্যা ছিল খুব কম, এতে মেট্রোরেলে বিপুলসংখ্যক যাত্রীর ভিড় দেখা যায়। মেট্রো থেকে নেমে যাত্রীরা রিকশা বা অন্য যান না পেয়ে হেঁটে গন্তব্যের দিকে চলে যান।
এই ধরনের অব্যবস্থাপনা রাজধানী বাসীর জন্য দৈনন্দিন জীবনে বড় একটি প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা শহরের অন্যান্য সমস্যার সঙ্গে মিলে জনজীবনে আরও বেশি অস্বস্তি সৃষ্টি করছে।
খবরওয়ালা/আরডি



