‘দুলা ভাই’ মঈনের অভিষেকে ইতিহাস গড়লেন নাসুম, দাপুটে জয়ে ফিরল সিলেট

‘দুলাভাই আচ্ছইন, এখন মাঠ কাপবো…’—ইংল্যান্ডের তারকা অলরাউন্ডার মঈন আলীকে এভাবেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাগত জানিয়েছিল সিলেট টাইটানস। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত স্ত্রী সানাই আলীর পারিবারিক সূত্রে সিলেটের জামাই হয়ে ওঠা মঈনের বিপিএল অভিষেক ঘিরে ছিল বাড়তি আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস। তবে নিজের প্রথম ম্যাচে ব্যাট কিংবা বল হাতে আলো ছড়াতে না পারলেও, এই ম্যাচটিই স্মরণীয় হয়ে থাকল সিলেটেরই আরেক ক্রিকেটার নাসুম আহমেদের কারণে।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নাসুম আহমেদের অবিশ্বাস্য বোলিং নৈপুণ্যে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে মাত্র ৬১ রানে গুটিয়ে দেয় সিলেট টাইটানস। জবাবে মাত্র ৮.৪ ওভারেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ৬ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা। নাসুমের ৪ ওভারে ৭ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার শুধু ম্যাচ জেতায়নি, গড়ে দিয়েছে একাধিক রেকর্ড।

নোয়াখালীর শুরুটা একেবারে খারাপ ছিল না। তিন ওভার শেষে কোনো উইকেট না হারিয়ে তারা তোলে ২৪ রান। কিন্তু চতুর্থ ওভারে বোলিংয়ে এসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন নাসুম। নিজের প্রথম বলেই সৌম্য সরকারকে বিদায় করেন তিনি, একই ওভারে ফেরান মুনিম শাহরিয়ারকেও। পরের ওভারে খালেদ আহমেদের হাতে ক্যাচ বানিয়ে দেন আগ্রাসী ব্যাটার হাবিবুর রহমানকে, যিনি ১৬ বলে ১৮ রান করেছিলেন।

পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে মাত্র ১ রান দিয়ে চাপ আরও বাড়ান নাসুম। ১১তম ওভারে আবার আক্রমণে এসে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন হায়দার আলীকে। তখন নোয়াখালীর রান ছিল ৪ উইকেটে ৪৫। শেষ ওভারে নাসুম যেন রীতিমতো আগুন ঝরান—মেহেদী হাসান, জাহির খান ও বিলাল সামিকে ফিরিয়ে পূর্ণ করেন নিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি পাঁচ উইকেট।

এই পারফরম্যান্স নাসুমের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের এক অনন্য মাইলফলক। ১৪৬ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটি তাঁর প্রথম পাঁচ উইকেট। একই সঙ্গে বিপিএলে বাংলাদেশি স্পিনারদের মধ্যে এটিই এখন সেরা বোলিং ফিগার। এতদিন এই কীর্তি ছিল সাকিব আল হাসানের দখলে, যিনি ২০১৭ সালে ১৬ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (টেবিল)

বিষয় তথ্য
ম্যাচ সিলেট টাইটানস বনাম নোয়াখালী এক্সপ্রেস
ভেন্যু সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম
নোয়াখালীর স্কোর ৬১ অলআউট
সিলেটের স্কোর ৬২/৩ (৮.৪ ওভার)
ম্যাচসেরা নাসুম আহমেদ
নাসুমের বোলিং ৪ ওভার, ৭ রান, ৫ উইকেট
মঈন আলী ২ ওভার ৬ রান, ব্যাটে ১*
সিলেটের জয় ৬ উইকেট

নাসুমের দাপুটে বোলিংয়ের পর সিলেটের ব্যাটিং ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা। তৌফিক খান তুষার ১৮ বলে সর্বোচ্চ ৩২ রান করেন। মঈন আলী অপরাজিত থাকেন ১ বলে ১ রান করে।

এই জয়ে ৬ ম্যাচে তৃতীয় জয় পেল সিলেট টাইটানস। অন্যদিকে ৪ ম্যাচ খেলে এখনো জয়হীন রইল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। ‘দুলাভাই’ মঈনের অভিষেক ম্যাচ হয়তো ব্যক্তিগতভাবে স্মরণীয় হয়নি, তবে সিলেটের ক্রিকেট ইতিহাসে এই দিনটি চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকবে নাসুম আহমেদের হাত ধরে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।