খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১১ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কুমিল্লার তিতাসে পরকীয়া প্রেমিক ভেকুচালক মো. নজরুল ভূঁইয়া (৩৫) কে কৌশলে ডেকে এনে হত্যা করেছেন হোসেন-স্মৃতি দম্পতি। পরে লাশ চার খণ্ড করে বাজারের ব্যাগে ভরে খালে ফেলে দেন তারা। পুলিশ খাল থেকে খণ্ডিত দুই হাত উদ্ধার করেছে, বাকি অংশ এখনো নিখোঁজ।
এদিকে হত্যার ৩ দিন পর ঘর ধোয়ামোছা করে শনিবার (৯ আগস্ট) রাতে খিচুড়ি পাকিয়ে মিলাদ পড়ান হোসেন-স্মৃতি দম্পতি। ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মজিদপুর গ্রামের দম্পতির নিজ বাড়িতে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা হানিফ ভূঁইয়া বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ অভিযুক্ত মোহাম্মদ হোসেন (৩২) ও তার স্ত্রী স্মৃতিকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত বুধবার (৬ আগস্ট) রাতে উপজেলার সাহাবৃদ্ধি গ্রামের নজরুল ভূঁইয়াকে মোবাইল ফোনে ডেকে এনে কুড়াল দিয়ে হত্যা করেন হোসেন-স্মৃতি। পরে ধারালো ছুরি ও কুড়াল দিয়ে লাশের মাথা, দুই হাত ও দুই পা কেটে চার ব্যাগে ভরে মজিদপুর-সাহাবৃদ্ধি খালে ফেলে দেন তারা। ১০ আগস্ট ভোরে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে আটক হওয়ার পর অভিযুক্তরা হত্যার কথা স্বীকার করেন। ওই দিন দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত পুলিশ খাল থেকে খণ্ডিত দুই হাত উদ্ধার করে।
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদ উল্যাহ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নিখোঁজ ডায়েরির সূত্র ধরে তদন্ত করে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আমরা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, হোসেনের স্ত্রী স্মৃতির সঙ্গে নজরুলের পরকীয়ার কারণে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে কৌশলে বাসায় ডেকে নিয়ে কুড়াল দিয়া মাথায় কোপ দিয়ে হত্যা করেন। লাশ গুমের জন্য ধারালো ছুরি ও কুড়াল দিয়ে মাথা, ২ হাত, ২ পা কেটে ৪টি বস্তায় ইট ও পানির বোতলসহ ভরে বাড়ির পাশে খালে ফেলে দেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আসামিরা পূর্বে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর জন্য অন্য একজনের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে ভিকটিমকে বাসায় ডাকে এবং পরে ওই নম্বরসহ মোবাইলটি ফেলে দেয়। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী খাল থেকে দুটি ইট ও পানির বোতলসহ একটি বাজারের ব্যাগে ভিকটিমের ২টি কাটা হাত এবং হত্যায় ব্যবহৃত কুড়াল ও ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।’
রবিবার নিহতের বাবা হানিফ ভূঁইয়া বাদী হয়ে তিতাস থানায় মামলা করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত হোসেন-স্মৃতি দম্পতিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
খবরওয়ালা/এসআই