কক্সবাজারের পেকুয়ায় চাঞ্চল্যকর বৃদ্ধ ইউসুফ আলী (৬৭), প্রকাশ মুন্সি মিয়া, হত্যা মামলার প্রধান আসামি আকাশ মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশেখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পেকুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিদুয়ানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিম এ অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি আকাশ মিয়া কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশেখালী এলাকার ওসমানীনের বাড়িতে আত্মগোপন করে আছেন। এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে পুলিশের দলটি ভোরে ওই বাড়িতে অভিযান চালায় এবং সেখান থেকে আকাশ মিয়াকে আটক করে।
ইউসুফ আলী ওরফে মুন্সি মিয়া হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই এলাকায় চাপা ক্ষোভ ও তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। অপরাধীদের ধরতে এবং ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে তৎপর হয়ে ওঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আলোচিত এই হত্যা মামলায় মোট পাঁচজনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই আসামিদের অবস্থান শনাক্তে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান চালায় পুলিশ।
পেকুয়া থানা সূত্রে জানা গেছে, এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামির মধ্যে এখন পর্যন্ত চারজনকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। এর আগে কূটাভাস ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার অপর তিন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সর্বশেষ কুতুবদিয়ার দুর্গম এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত আকাশ মিয়াকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলো। গ্রেপ্তারকৃত চারজনকেই ইতোমধ্যে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত শুনানি শেষে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পেকুয়ার মতো উপকূলীয় অঞ্চলে জমিজমা, স্থানীয় প্রভাব বিস্তার কিংবা পুরনো শত্রুতাকে কেন্দ্র করে প্রায়ই অনাকাঙ্ক্ষিত বিবাদ দেখা যায়। তবে মুন্সি মিয়ার মতো একজন প্রবীণ মানুষের হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল অভিযুক্ত দ্রুত ধরা পরায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এলাকার সচেতন মহল অপরাধের সাথে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন, যেন ভবিষ্যতে এমন নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
মামলার বর্তমান অগ্রগতি নিয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় তদন্তের বড় একটি ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। তবে এটিই শেষ নয়; হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কারণ ও প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্ত প্রক্রিয়া পুরোদমে চলছে। ঘটনার পেছনে অন্য কারও পরোক্ষ মদদ ছিল কি না, তাও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এজাহারভুক্ত বাকি একজন আসামিসহ ঘটনায় জড়িত সকল অভিযুক্তকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাতে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।


