খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে আশ্বিন ১৪৩১ | ২৪ই সেপ্টেম্বর ২০২৪ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ পিওন হয়েও পোস্ট মাষ্টার এর পদ দখলে নিয়ে কুষ্টিয়া ডাক বিভাগ কে রেখেছেন নিজের করায়ত্তে, কামিয়েছেন লাখ লাখ টাকা, আওয়ামী লীগের পতন হলেও, পতন হয়নি তার। এখনো বহাল তবিয়তে পোস্ট মাষ্টার হিসাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা জিয়ারখি ইউনিয়ন এর জগন্নাথ পুর গ্রামের দেলোয়ার বিশ্বাস। ১৪, ১৮ ও ২০২৪ সালের অবৈধ নির্বাচনে কুষ্টিয়া ৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ এম পির ভোট জালিয়াতির দোসর কুষ্টিয়া ডাক বিভাগের পিয়ন দেলোয়ার বিশ্বাস।
শুধু তাই না হানিফর সবরকম অবৈধ কর্মকান্ডের সিপাহসালার আতাউর রহমান আতা এর একান্ত সহযোগী ও পরামর্শ দাতাদের মধ্যে অন্যতম হিসাবে যে কয়জনের নাম এসেছে তাদের মধ্যে অন্যতম জাতীয় শ্রমিক লীগ কুষ্টিয়া জেলা কমিটির স্বঘোষিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডাক বিভাগ এর পিয়ন দেলোয়ার বিশ্বাস। তথ্য সুত্রে জানা যায় ২০১৪ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ কুষ্টিয়া ৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হলে জিয়ারখী,কাঞ্চন পুর এলাকায় ভোটার উপস্থিতি দেখানোর দায়িত্ব পালন করে দেলোয়ার বিশ্বাস, নির্বাচনে হানিফ এম পি হওয়ার পর থেকেই দেলোয়ার বিশ্বাস হয়ে ওঠে বেপরোয়া,
কুষ্টিয়া জেলা ডাক বিভাগ কে নিজের করায়ত্ত করে ডেপুটি পোস্ট মাষ্টার কে,নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হানিফ এম পির ক্ষমতা ব্যাবহার করতেন, পিওন থেকে হয়ে যায় পোস্ট মাষ্টার, শুরু হয় নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য, ডাক বিভাগে আছে তার বহু দুর্নিতীর ইতিহাস। মাহবুবউল আলম হানিফর আশির্বাদে তিনি এতটাই শক্তিশালী হয়েছিল যে জাতীয় শ্রমিকলীগ কুষ্টিয়া জেলা কমিটির নির্বাচিত নেতৃবৃন্দ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতে পারেন নাই, তিনি নিজেকে জাতীয় শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে তার নিজের লোকজন দিয়ে বিভিন্ন অফিস কলকারখানা দখলে নিয়েছে, সেখানে অন্য কেউ রাজনীতি করতে পারে নাই।

এমন কি কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দও তার প্রভাবে জাতীয় শ্রমিক লীগের কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত কমিটি কে দুরে সড়িয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। ২০১৮ সালেও তার নেতৃত্বেই ঐ এলাকায় রাতের ভোট সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে পিয়ন থেকে পোস্ট মাষ্টার মাহবুব উল আলম হানিফ এর পক্ষে নৌকার নির্বাচনে কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে তার নিজের বাড়িতে জনসভা করে। উঠান বৈঠক, তিনদিন ধরে লাঠি খেলার আয়োজন করে।

এলাকাবাসী জানান মুলতঃ বিরোধিতাকারীদের ভয় দেখাতেই তার বাড়িতে লাঠিয়াল বাহিনী উপস্থিত রেখে ছিলেন এবং ভোটের মাঠে তারা ভোটার বিহীন ব্যালট বাক্স পরিপূর্ণ করেন। সরকারের দুর্নীতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠান গুলোর ভিতরে অন্যতম হচ্ছে ডাক বিভাগ, যেখানে এখনো পেন্সিল দিয়ে হিসাব কষে রাখা হয়, সেই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে গত ১৬ বছরে বহু অর্থ নয় ছয় করেছে দেলোয়ার বিশ্বাস এর মতো কর্মচারীরা। সর্বপরি দেলোয়ার বিশ্বাস এখনো জগতি পোস্ট অফিসে মাষ্টার হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন, ডাক বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্যাতিত কর্মচারীদের দাবি বিষয় টা একটু খতিয়ে দেখে ব্যাবস্থা গ্রহন করা কর্তৃপক্ষের নৈতিক দায়িত্ব।
আরও দেখুন: