প্রেমিকার হঠাৎ মৃত্যুর মর্মান্তিক খবর সহ্য করতে না পেরে ফরিদপুরের চরভদ্রাসনের তানভীর হোসেন (১৯) নামের এক তরুণ বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় ফরিদপুর শহরের কমলাপুর চানমারী এলাকায় বোনের বাড়িতে তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নেন। নিহত তানভীর উপজেলার মফিজদ্দিন খালাসীর ডাঙ্গী গ্রামের প্রয়াত মো. আশরাফ হোসেনের ছেলে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তানভীরের সঙ্গে এক তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সোমবার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে সেই প্রেমিকা মারা যান। এই দুঃসংবাদটি পাওয়ার পরপরই তানভীর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং শোকে দিশেহারা হয়ে ওঠেন। স্বান্তনা ও আশ্রয় খুঁজতে তিনি ফরিদপুর শহরের কমলাপুরে তাঁর বোন তানজিলা আক্তারের বাসায় ছোটেন।
বোন তানজিলার বাসায় পৌঁছানোর পর তানভীরের শোকের তীব্রতা আরও বাড়ে। শোকে আকুল হয়ে একপর্যায়ে তিনি বোনের বাসার বাইরে গিয়ে সুযোগ বুঝে বিষপান করেন। কিছুক্ষণ পর আবার বাসায় ফিরে এলে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। অস্বাভাবিকভাবে ছটফট করতে দেখে এবং অসুস্থতার বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় সন্ধ্যার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তানভীরকে মৃত ঘোষণা করেন।
ছোট ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। ঘটনার পরপরই নিহতের বড় ভাই মো. সাইফুর রহমান এবং মা ছালেহা বেগম ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় উপস্থিত হয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মৃতদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পরিবারের এজাহারের ভিত্তিতে এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

