বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এমন কিছু সামরিক ব্যক্তিত্ব রয়েছেন, যাঁদের সাহস, দূরদর্শিতা, রণকৌশল ও নেতৃত্বের অসাধারণত্ব তাঁদের সমসাময়িকদের থেকে স্বতন্ত্র মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ, বীর উত্তম তাঁদেরই একজন। তিনি ছিলেন একজন সাহসী সম্মুখযোদ্ধা, দক্ষ সামরিক সংগঠক, দূরদর্শী রণকৌশলবিদ এবং গেরিলা যুদ্ধের অন্যতম সফল পরিকল্পনাকারী।
তাঁকে শুধু একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মূল্যায়ন করলে তাঁর অবদানকে পুরোপুরি অনুধাবন করা যায় না। প্রচলিত সামরিক যুদ্ধের পাশাপাশি কীভাবে ক্ষুদ্র ও সুসংগঠিত গেরিলা দল দিয়ে শক্তিশালী দখলদার বাহিনীকে বিপর্যস্ত করা যায়, কীভাবে শত্রুর মনোবল ভেঙে দেওয়া যায় এবং কীভাবে একটি যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক পরিসরে দৃশ্যমান করে তোলা যায়—খালেদ মোশাররফ ছিলেন তার অন্যতম সফল রূপকার।
জন্ম ৯ নভেম্বর ১৯৩৭ সালে তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার জামালপুর মহকুমার ইসলামপুরে। তাঁর পিতার নাম মোশাররফ হোসেন। তিনি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মজীবন শুরু করেন। কিন্তু ১৯৭১ সালে বাঙালির মুক্তির সংগ্রামে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন। দেশমাতৃকার স্বাধীনতার প্রশ্নে কোনো আপস করেননি।
১৯৭১: বিদ্রোহ থেকে মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে
১৯৭১ সালের মার্চে তিনি চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সঙ্গে কর্মরত ছিলেন। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অপারেশন সার্চলাইট শুরু হলে বাঙালি সামরিক সদস্যদের মতো তিনিও পাকিস্তানি সামরিক কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে শামিল হন।
পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পর এপ্রিল মাসে তেলিয়াপাড়া সামরিক বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধের সামরিক কাঠামো ও সেক্টর বিন্যাস নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব লাভ করেন।
তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয় ২ নম্বর সেক্টরের অধিনায়ক হিসেবে। এই সেক্টরের আওতায় ছিল ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর ও নোয়াখালীর বিস্তীর্ণ অঞ্চল।
২ নম্বর সেক্টর ছিল মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল এলাকা। ঢাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ শহর, যোগাযোগব্যবস্থা এবং পাকিস্তানি সামরিক স্থাপনাগুলো এই সেক্টরের যুদ্ধপরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করত।
একদিকে সম্মুখযুদ্ধ, অন্যদিকে গেরিলা অভিযান—দুই ধারার যুদ্ধকৌশলকে সমন্বিত করে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত ও প্রশিক্ষিত করেন।
ক্র্যাক প্লাটুন: ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর আতঙ্ক
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে খালেদ মোশাররফের অন্যতম অসাধারণ অবদান হলো ঐতিহাসিক ক্র্যাক প্লাটুন গঠন।
তাঁর পরিকল্পনা ও মেজর এ টি এম হায়দারের সহযোগিতায় ১৯৭১ সালের জুন মাসে গড়ে ওঠে এই বিশেষ নগর গেরিলা দল। প্রাথমিকভাবে ১৭ জন তরুণ মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে দলটির যাত্রা শুরু হয়। তাঁদের অধিকাংশ ছিলেন ঢাকা শহরের ছাত্র ও তরুণ পেশাজীবী।
মেলাঘর প্রশিক্ষণশিবিরে গেরিলা প্রশিক্ষণ শেষে ৪ জুন তাঁরা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন এবং ৫ জুন থেকে নগরভিত্তিক অভিযান শুরু করেন।
মতিঝিল, ফার্মগেট, তেজগাঁও, ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলসহ ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও পাকিস্তানি বাহিনীর অবস্থানে তাঁরা আকস্মিক আক্রমণ চালাতে থাকেন।
তাঁদের যুদ্ধকৌশল ছিল—আকস্মিক আক্রমণ, দ্রুত অভিযান এবং নিরাপদে সরে যাওয়া। অর্থাৎ হিট অ্যান্ড রান পদ্ধতি।
ক্র্যাক প্লাটুনের উদ্দেশ্য শুধু পাকিস্তানি সেনাদের ক্ষয়ক্ষতি ঘটানো ছিল না। এর অন্যতম কৌশলগত লক্ষ্য ছিল বিশ্ববাসীকে দেখানো যে পাকিস্তানি শাসকদের প্রচারিত স্বাভাবিক পরিস্থিতির দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ঢাকা শহর তখনো মুক্তির জন্য লড়ছে, প্রতিরোধ চলছে, দখলদার বাহিনী কোথাও নিরাপদ নয়।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদল যখন পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আসে, তখন এই গেরিলা অভিযানগুলোর মাধ্যমে পাকিস্তানি সরকারের স্বাভাবিক পরিস্থিতির প্রচারণাকে চ্যালেঞ্জ করার পরিকল্পনাও ছিল।
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের ২০২৪ সালের Armed Forces Journal-এ প্রকাশিত গবেষণামূলক নিবন্ধেও ক্র্যাক প্লাটুন গঠনে খালেদ মোশাররফ ও এ টি এম হায়দারের ভূমিকা এবং ঢাকায় তাদের গেরিলা অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।
এই প্লাটুনের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন রুমি, বদি, বাচ্চু, আজম খান, নাসিরউদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু, শাহাদাত চৌধুরী, রাইসুল ইসলাম আসাদসহ আরও অনেকে।
ক্র্যাক প্লাটুনের দুর্ধর্ষ অভিযান পাকিস্তানি বাহিনীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এটি নগর গেরিলা যুদ্ধের এক অনন্য অধ্যায়।
কে-ফোর্স: নিয়মিত বাহিনীর শক্তিশালী সামরিক কাঠামো
খালেদ মোশাররফ শুধু গেরিলা যুদ্ধের পরিকল্পনাকারী ছিলেন না; নিয়মিত সামরিক বাহিনী গঠন ও পরিচালনায়ও তাঁর অসাধারণ দক্ষতা ছিল।
মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়মিত ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যদের সংগঠিত করে তিনি গড়ে তোলেন কে-ফোর্স (K-Force)।
১৯৭১ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বর সময়ে এই বাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামো সুসংহত হয়। এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট।
কে-ফোর্সের নামকরণ করা হয় খালেদ মোশাররফের নামের আদ্যক্ষর ‘K’ থেকে।
এই বাহিনী ছিল মুক্তিযুদ্ধের নিয়মিত সামরিক শক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রচলিত সামরিক কৌশলে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধ পরিচালনা, শত্রুর অবস্থানে আঘাত হানা এবং মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে সম্মিলিত অভিযান পরিচালনায় কে-ফোর্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এখানেই খালেদ মোশাররফের সামরিক প্রজ্ঞার বিশেষত্ব। তিনি বুঝেছিলেন, শুধু গেরিলা আক্রমণ দিয়ে একটি সুসজ্জিত নিয়মিত সেনাবাহিনীকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করা কঠিন। তাই গেরিলা যুদ্ধের পাশাপাশি নিয়মিত বাহিনীর শক্তি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
সালদা নদীর রণাঙ্গনে রক্তাক্ত বীরত্ব
১৯৭১ সালের ২৩ অক্টোবর কুমিল্লার কসবা অঞ্চলের সালদা নদীর সম্মুখযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণে তিনি গুরুতর আহত হন। শত্রুপক্ষের গুলিতে তাঁর মাথায় আঘাত লাগে।
অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের লখনৌ সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।
একজন সেনাপতির জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে আহত হওয়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু খালেদ মোশাররফের বীরত্ব ছিল এই যে, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকেও তিনি ফিরে এসেছিলেন অদম্য মনোবল নিয়ে।
তাঁর মাথায় আঘাতের স্মৃতি ও ক্ষতচিহ্ন বহন করেই তিনি পরবর্তী সময়ে দেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
যুদ্ধজয়ের পর রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) নিযুক্ত হন।
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীর উত্তম’প্রদান করা হয়।
তবে স্বাধীনতার পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা, সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্ব বাংলাদেশের ইতিহাসকে এক ভয়াবহ সংকটের দিকে নিয়ে যায়।
৩ নভেম্বর ১৯৭৫: ইতিহাসের এক নাটকীয় সামরিক অভ্যুত্থান
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও সামরিক কাঠামোয় গভীর সংকট তৈরি হয়। সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়তে থাকে।
এই পরিস্থিতিতে তৎকালীন চিফ অব জেনারেল স্টাফ ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ ৩ নভেম্বর ১৯৭৫ একটি সামরিক অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন।
তাঁর অন্যতম ঘোষিত লক্ষ্য ছিল সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সামরিক কর্মকর্তাদের ক্ষমতার বলয় থেকে সরিয়ে দেওয়া।
এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়। পরবর্তী সময়ে খালেদ মোশাররফ মেজর জেনারেল পদে উন্নীত হন এবং সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তবে ৩ নভেম্বরের এই রাজনৈতিক-সামরিক পটপরিবর্তন ছিল অত্যন্ত জটিল ও বিতর্কপূর্ণ। এর মধ্যেই ৩ নভেম্বর ভোরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতাকে—সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে।
৭ নভেম্বর ১৯৭৫: এক বীরের করুণ পরিণতি
৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের মাত্র চার দিনের মাথায়, ৭ নভেম্বর ১৯৭৫, সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে পাল্টা অভ্যুত্থান ও সৈনিক বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।
এই অস্থিরতার মধ্যেই ঢাকার শেরেবাংলা নগরে নিহত হন বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানায়ক মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ, বীর উত্তম।
একই ঘটনায় প্রাণ হারান মুক্তিযুদ্ধের আরেক সাহসী সেনানায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ টি এম হায়দার, বীর উত্তম এবং কর্নেল খন্দকার নাজমুল হুদা, বীর বিক্রম।
ইতিহাসের এক নির্মম পরিহাস হলো, যে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন, স্বাধীনতার মাত্র চার বছরের মধ্যে তাঁদেরই কয়েকজনকে প্রাণ দিতে হয়েছিল স্বাধীন দেশের সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতার শিকার হয়ে।
আরও বেদনাদায়ক বিষয়, কে-ফোর্সের অধীনে থাকা ১০ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যদের একটি অংশ ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তবে তাঁর হত্যাকাণ্ডের দায় কোনো একটি রেজিমেন্টের সব সদস্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ইতিহাসসম্মত নয়।
ইতিহাসে খালেদ মোশাররফের অবস্থান
খালেদ মোশাররফ ছিলেন এমন একজন সামরিক ব্যক্তিত্ব, যিনি মুক্তিযুদ্ধের দুই গুরুত্বপূর্ণ ধারাকে সমন্বিত করেছিলেন—নগর গেরিলা যুদ্ধ এবং নিয়মিত সামরিক অভিযান।
তাঁর নেতৃত্বে ক্র্যাক প্লাটুন ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর নিরাপত্তাব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করেছিল। তাঁর পরিকল্পনায় কে-ফোর্স নিয়মিত সামরিক শক্তি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের ময়দানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ২ নম্বর সেক্টরের অধিনায়ক হিসেবে তিনি অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধাকে সংগঠিত ও পরিচালনা করেছিলেন।
তাঁর জীবনের শেষ অধ্যায় নিয়ে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বিতর্ক থাকতে পারে, ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থান নিয়ে ভিন্ন মূল্যায়নও থাকতে পারে। কিন্তু ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বীরত্ব, সামরিক নেতৃত্ব এবং অসামান্য অবদান অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।
একজন প্রকৃত সেনানায়কের পরিচয় শুধু তাঁর হাতে থাকা অস্ত্রে নয়; তাঁর দূরদর্শিতা, পরিকল্পনা, নেতৃত্ব এবং নিজের অধীনস্থ যোদ্ধাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস সঞ্চার করার ক্ষমতায়।
খালেদ মোশাররফ সেই বিরল গুণাবলির অধিকারী ছিলেন।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তিনি শুধু একজন বীর উত্তম নন; তিনি সাহস, সামরিক প্রজ্ঞা, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের এক অনন্য প্রতীক।
তাঁর জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—স্বাধীনতা শুধু একটি ভূখণ্ডের নাম নয়; স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে থাকে অসংখ্য মানুষের রক্ত, সাহস, কৌশল ও আত্মত্যাগ।
মহান মুক্তিযুদ্ধের এই সাহসী সেনানায়ককে জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও বিনম্র অভিবাদন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ, বীর উত্তম—আপনার বীরত্ব ও অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
লাল সালাম, বীর সেনানায়ক।
তথ্যসূত্র :
* বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের Armed Forces Journal, নভেম্বর ২০২৪—ক্র্যাক প্লাটুনের গঠন ও অভিযান। Agricultural Finance Department
* Dhaka Tribune—৩ নভেম্বর ১৯৭৫-এর অভ্যুত্থান ও খালেদ মোশাররফের ভূমিকা। Dhaka Tribune
* Dhaka Tribune—খালেদ মোশাররফের মুক্তিযুদ্ধকালীন অবদান ও ৭ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ড। Dhaka Tribune
* SOAS, University of London—Martial Law in Bangladesh, 1975–1979: A Legal Analysis। SOAS Eprints


