লালমনিরহাটের আদিতমারী, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে নারী-শিশুসহ অন্তত ৬৫ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইন বা ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয়দের বাধার মুখে এ চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বর্তমানে এসব ব্যক্তি সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। এ ঘটনায় সীমান্তজুড়ে বিরাজ করছে উত্তেজনা।
বুধবার (২৮ মে) ভোরে আদিতমারীর দুর্গাপুর ইউনিয়নের চওড়াটারী সীমান্ত, হাতীবান্ধার ভেলাগুড়ি ও পাটগ্রামের ধবলগুড়ি সীমান্তসহ একাধিক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। এসময় বিজিবি দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সীমান্তে কঠোর অবস্থান নেয় এবং বিএসএফের পুশ-ইন পরিকল্পনা প্রতিহত করে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আদিতমারীর চওড়াটারী সীমান্তে ১৩ জন, হাতীবান্ধার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ২৪ জন এবং পাটগ্রামের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ২৮ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা হয়। তবে বিজিবির বাধার কারণে তারা কেউই বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি।
জানা গেছে, ঠেলে পাঠানো ব্যক্তিরা ভারতের আসাম রাজ্যের বাসিন্দা এবং অধিকাংশই বাংলাভাষী মুসলিম। তাঁদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এদের অধিকাংশের আসামে স্থায়ী বসবাস ও জমি-জমার মালিকানা রয়েছে।
ঘটনার পরপরই সীমান্তে সতর্ক অবস্থান নেয় বিজিবি। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও সীমান্তে অবস্থান নেন। এ পরিস্থিতিতে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে ভারতের ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
দুপুরে আদিতমারীর চওড়াটারী সীমান্তের ৯২৪ নম্বর মেইন পিলারের কাছে ক্যাম্প কমান্ডার পর্যায়ে এবং বিকেলে অধিনায়ক পর্যায়ে দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফ দাবি করে, শূন্যরেখায় অবস্থানকারীরা বাংলাদেশি নাগরিক। তবে বিজিবি তা প্রত্যাখ্যান করে বলে, যথাযথ প্রমাণ ছাড়া কাউকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের প্রাপ্ত তথ্যমতে, এরা সবাই আসামের বাসিন্দা। আমরা ভারতের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।’
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিকেল পাঁচটায় ৬৫ জন ব্যক্তি সীমান্তের শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছিলেন। বিজিবি ও বিএসএফ উভয়পক্ষই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, এবং সীমান্তে অতিরিক্ত নজরদারি চলছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত একটি মানবিক ও কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
খবরওয়ালা/আরডি



