বিধ্বংসী নুরুল হাসান: হার না মানা ইনিংসে দুর্বারের অবিস্মরণীয় জয়

মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ এক শ্বাসরুদ্ধকর লড়াকু ম্যাচের সাক্ষী থাকল ক্রিকেটপ্রেমীরা। একপর্যায়ে হারের দ্বারপ্রান্তে থাকা ‘দুর্বার’কে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুললেন অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান। তাঁর অতিমানবিক ব্যাটিংয়ের সামনে কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে ধূমকেতু একাদশের বোলাররা। মূলত নুরুলের একার তাণ্ডবেই অসম্ভব এক সমীকরণ মিলিয়ে দিয়ে ২ উইকেটের অবিশ্বাস্য জয় ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বার।

ধূমকেতুর মাঝারি সংগ্রহ ও দুর্বারের ব্যাটিং বিপর্যয়

প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ধূমকেতু একাদশের শুরুটা খুব একটা আশাব্যঞ্জক ছিল না। জাতীয় দলের তারকা সমৃদ্ধ এই দলটি মিরপুরের পিচে সুবিধা করতে হিমশিম খেয়েছে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেন ওপেনার লিটন দাস, যা তিনি সাজিয়েছেন ৫টি বাউন্ডারির সাহায্যে। শেষের দিকে মেহেদী হাসানের ৩১ এবং সাইফের ২৮ রানের ছোট দুটি ইনিংসের ওপর ভর করে ধূমকেতু দেড় শ রানের কোটা পার করতে সক্ষম হয়।

১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুর্বার শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। ধূমকেতুর স্পিনার মেহেদী হাসানের ঘূর্ণিতে দিশেহারা হয়ে পড়ে তারা। মাত্র ১১ রান খরচ করে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে মেহেদী যখন দুর্বারকে চেপে ধরেছিলেন, তখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি ধূমকেতুর পকেটে। ৮১ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দুর্বারের জয় তখন কেবল অলীক কল্পনা বলে মনে হচ্ছিল।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান ও সংক্ষিপ্ত স্কোর:

সূচক বিবরণ/তথ্য
ধূমকেতু একাদশ ১৫৫/৭ (২০ ওভার)
দুর্বার ১৫৯/৮ (১৯.৪ ওভার)
ম্যাচ জয়ী ইনিংস নুরুল হাসান (৪৪ বলে ৭৬ রান)
সেরা বোলার (ধূমকেতু) মেহেদী হাসান (৪-০-১১-৪)
সেরা বোলার (দুর্বার) হাসান মাহমুদ (২/৩৫) ও তানভীর (২/৩৫)
শেষ ২ ওভারের চাহিদা ৩৬ রান

নুরুলের রুদ্রমূর্তি ও অকল্পনীয় জয়

ম্যাচের মোড় ঘোরে যখন নুরুল হাসান ক্রিজে জাঁকিয়ে বসেন। একপ্রান্তে উইকেট পড়তে থাকলেও তিনি ছিলেন অবিচল। অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে ৪১ রানের একটি কার্যকরী জুটি গড়েন তিনি। তবে ১৮তম ওভারে সাইফউদ্দিন সাজঘরে ফিরে গেলে দুর্বারের ওপর চাপ বাড়ে দ্বিগুণ। শেষ ২ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৬ রান। এই সময় বল করতে আসেন জাতীয় দলের পেসার শরীফুল ইসলাম। ১৯তম ওভারে শরীফুলকে লক্ষ্য করে নুরুলের রুদ্রমূর্তি ক্রিকেট ভক্তদের স্তম্ভিত করে দেয়।

সেই ওভারে ৪টি বিশাল ছক্কার সাহায্যে একাই ২৬ রান সংগ্রহ করেন নুরুল। নুরুলের এই ঝোড়ো ইনিংসের ওপর ভর করেই ৪ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় দুর্বার। ৪৪ বলের ইনিংসে তিনি ৪টি চার এবং ৬টি ছক্কার সাহায্যে ৭৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। শরীফুলের মতো অভিজ্ঞ বোলারকে যেভাবে তিনি শাসন করেছেন, তা ঘরোয়া ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ফিনিশিং হিসেবে গণ্য হবে।

ফাইনালের হাতছানি

এই জয়ের ফলে টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলার দৌড়ে অনেকখানি এগিয়ে গেল দুর্বার। পরবর্তী ম্যাচে যদি আকবর আলীর নেতৃত্বাধীন দুরন্ত বড় ব্যবধানে জয় না পায়, তবে দুর্বার এবং ধূমকেতু—এই দুই দলই শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। আজকের ম্যাচের নায়ক নুরুল হাসান সোহান আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাকে ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ‘ম্যাচ ফিনিশার’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।