খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে মাঘ ১৪৩২ | ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের দেশ গ্রেনাডার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে বাংলাদেশ। গত ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বৃহস্পতিবার বিকেলে লন্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে এক ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে দুই দেশের মধ্যে এই সংক্রান্ত যৌথ ঘোষণা স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়া ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের মধ্যে সহযোগিতার এক নতুন সেতুবন্ধন উন্মোচিত হলো। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দুই দেশের এই আনুষ্ঠানিক মিলন বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গ্লোবাল সাউথের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
লন্ডনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম এবং গ্রেনাডার পক্ষে দেশটির হাইকমিশনার রাচের ক্রোনি নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ ও গ্রেনাডা—উভয় রাষ্ট্রই ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করেছিল। সদস্যপদ লাভের দীর্ঘ ৫২ বছর পর এই আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সূচনা দুই দেশের পররাষ্ট্র নীতিতে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
নিচে দুই দেশের মৌলিক তথ্যের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বাংলাদেশ | গ্রেনাডা |
| অবস্থান | দক্ষিণ এশিয়া | ক্যারিবীয় অঞ্চল (উত্তর আমেরিকা) |
| জাতিসংঘে যোগদান | ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ | ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ |
| আঞ্চলিক জোট | সার্ক (SAARC), বিমসটেক | ক্যারিকম (CARICOM), ওএসিএস |
| অর্থনৈতিক শক্তি | বস্ত্র, ওষুধ ও কৃষি | পর্যটন ও মশলা (জায়ফল) |
| সাধারণ ফোরাম | কমনওয়েলথ, জাতিসংঘ | কমনওয়েলথ, জাতিসংঘ |
অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম এই সম্পর্ককে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সম্পর্কের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনুমোদিত এই পদক্ষেপ ‘দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার’ (South-South Cooperation) ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং দুর্যোগ সহনশীলতায় বাংলাদেশের বৈশ্বিক নেতৃত্ব এবং ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্র হিসেবে গ্রেনাডার অবস্থানের সমন্বয় ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শক্তিশালী ভূমিকা রাখা সম্ভব।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (RMG) এবং বিশ্বমানের ওষুধ শিল্পের জন্য গ্রেনাডা তথা ক্যারিবীয় অঞ্চল একটি সম্ভাবনাময় বাজার হতে পারে। গ্রেনাডার কৌশলগত অবস্থানকে ব্যবহার করে এই অঞ্চলে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, গ্রেনাডা তার শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হতে পারে।
প্রধান সহযোগিতার ক্ষেত্রসমূহ:
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ: দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা নিয়ে আলোচনা।
জলবায়ু কার্যক্রম: সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় যৌথ গবেষণা।
শিক্ষা ও দক্ষতা: কারিগরি শিক্ষা ও পেশাদারী প্রশিক্ষণ আদান-প্রদান।
আন্তর্জাতিক ফোরাম: জাতিসংঘ ও কমনওয়েলথভুক্ত ফোরামে একে অপরকে সমর্থন প্রদান।
গ্রেনাডার হাইকমিশনার রাচের ক্রোনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ ও গ্রেনাডা উভয়ই গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং টেকসই উন্নয়নে বিশ্বাসী। গ্লোবাল সাউথের দেশ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক সহনশীলতার মতো অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশ এখন থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। এই কূটনৈতিক সম্পর্ক কেবল সরকারি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না থেকে দুই দেশের জনগণের মধ্যেও ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিশেষে বলা যায়, গ্রেনাডার সঙ্গে এই সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার কূটনৈতিক বলয়কে আরও বিস্তৃত করল। এটি প্রমাণ করে যে, ভৌগোলিক দূরত্ব থাকলেও অভিন্ন স্বার্থ ও সম্মানের ভিত্তিতে আধুনিক বিশ্বে যেকোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে শক্তিশালী বন্ধুত্ব গড়ে তোলা সম্ভব।